মে ১৩, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
নতুন সরকারের দ্বিতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ধাপের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।সভায় প্রায় ২৪ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে সবার নজর ছিল ১১ নম্বর কার্যতালিকায় থাকা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের দিকে। মূলত ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেওয়া পানির সংকট মোকাবিলায় কয়েক দশকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্পটি পাস করা হলো।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রস্তাব করেছে। এটি চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। যদিও পুরো প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা, তবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথম ধাপের পুরো অর্থায়ন আসবে সরকারি তহবিল থেকে।ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংরক্ষিত পানি দিয়ে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে রাজবাড়ীর পাংশায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে, যাতে ৭৮টি স্পিলওয়ে ও ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট থাকবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পদ্মা ব্যারাজ ও গড়াই অফ-টেক এলাকায় কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে মোট ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ধাপের আওতায় ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গড়াই-মধুমতি নদী এবং ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার হিসনা নদী ব্যবস্থার ড্রেজিং ও পুনঃখনন করা হবে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সুফল পাবে দেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ অঞ্চল। প্রথম ধাপে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা ও ১২০টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে। জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা ও পিরোজপুরসহ আরও বেশ কিছু এলাকা।
কৃষি ও মৎস্য খাতেও এই প্রকল্প বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতি বছর ধান উৎপাদন প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন এবং মৎস্য উৎপাদন প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার টন বাড়তে পারে। পলি জমা কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
উল্লেখ্য, পদ্মার ওপর ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ প্রায় ২৫ বছর আগে তৎকালীন বিএনপি সরকার গ্রহণ করেছিল। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে চারটি সমীক্ষা এবং ২০১৩ সালে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে অবশেষে বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে হাঁটলো।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন