রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্কুল থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৬, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

স্কুল থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে প্রধানমন্ত্রী

দেশব্যাপী স্কুল পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপরেই তিনি মূলত এই তাগিদ দেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী এই সংকট কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ অত্যন্ত বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে এর জন্য ধরব কিংবা কতজনকে চিকিৎসা বা কাউন্সেলিং দেব? আমাদের তো রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। 

তাই এই সর্বনাশা সমস্যার টেকসই সমাধানে আমাদের অবশ্যই বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে।ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো নিয়মিত খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চা। 

অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। তরুণদের এই অফুরন্ত শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকার ইতিমধ্যে ‍‍`নতুন কুঁড়ি‍‍` ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করেছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তানরা যুক্ত হয়েছে।কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন সরকার প্রধান। 

যুবসমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা চালু রাখতে হবে। আজকাল সমাজে এক ধরনের অস্বাভাবিক মানসিকতা দেখা যাচ্ছে যেখানে জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং অনেকে মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এই ধরনের অবক্ষয় রোধে তথ্য মন্ত্রণালয়কে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণামূলক কার্যক্রম বা ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং সরকারের প্রস্তাবিত ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের লক্ষ্য নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।