রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত এলাকায় হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ সব ধরনের আন্ত সীমান্ত অপরাধ দমনে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে ভারত সীমান্তের অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানগুলোতেও নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। 

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের পৃথক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বিশেষ বৈঠক শুরু হলে এই সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ দেন।

তিনি জানান যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের জোরপূর্বক পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জন নাগরিকের মধ্যে ১১ জনকে বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে বিজিবি। এছাড়া ১৮৩ জনকে সরাসরি পুশব্যাক করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিএসএফের এমন অন্তত ৩৬টি পুশইনের অবৈধ চেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। 

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সাম্প্রতিক সীমান্ত সম্মেলনে এই সীমান্ত হত্যার বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালো ও কঠোরভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রী সংসদে আরও জানান যে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশীদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। 

তবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সবসময়ই সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভারতের ওপর পরোক্ষভাবে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা অব্যাহত রেখেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।