জুন ২৪, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডক্টর জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্তোষজনক নয়’ বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ। একই সাথে সম্পূর্ণ ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক বলে বর্ণনা করা হয়েছে।ঢাকায় এক কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে এই কড়া অবস্থানের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান যে এই বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ যে ব্যাখ্যা হাজির করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা সন্তোষজনক নয়। আন্তর্জাতিক জোট আইওআরএ বা ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর জোটের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতেই ডক্টর জাহেদ উর রহমান দিল্লি যাচ্ছিলেন।
কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এই সফরের বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনেক আগেই যথাযথ নিয়মে অবহিত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁর সাথে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে, তা দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দাবি করেছিলেন যে গত ১৪ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ও সার্ক ভিসা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। বিমানবন্দরে অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাঁর সফরের উদ্দেশ্য নিশ্চিত করার জন্য সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং পরে তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা জানিয়েছে যে বিমানবন্দরে অন্যায্য জিজ্ঞাসাবাদের কারণে সে সময় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় ফিরে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সম্পর্কে ভারতের করা মন্তব্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র মনে করিয়ে দেন যে প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ডে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে কাজ করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন