রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এনআইডি কার্ড নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক

জুন ২৭, ২০২৬, ১১:২৮ এএম

এনআইডি কার্ড নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি ইস্যুর ১৫ বছর পূর্ণ হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে নবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমান আইন ও বিধিмаলায় এই নবায়নের বিধান থাকলেও তা এখনো বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে নাগরিকদের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল ও হালনাগাদ রাখতে বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নীতিগত আলোচনা চলছে।

পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা এড়াতেই এই উদ্যোগ।কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, ১৫ বছর একটি দীর্ঘ সময় হওয়ায় মানুষের চেহারায় স্বাভাবিকভাবেই নানা পরিবর্তন আসে। অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বা চিকিৎসার প্রয়োজনে চেহারায় বদল, আবার কেউ কেউ সার্জারির মাধ্যমে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করেন। একই সঙ্গে বয়সের কারণে মানুষের আঙুলের ছাপের গুণগত মানও কমে যেতে পারে। ফলে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা ও পরিচয় শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়, যা দূর করতে নিয়মিত ব্যবধানে তথ্য হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুযায়ী, একজন নাগরিককে দেওয়া পরিচয়পত্রের মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। বিদ্যমান বিধিমালা অনুসারে, এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অনলাইনের মাধ্যমে বা সরাসরি কমিশনের কাছে নবায়নের আবেদন করার নিয়ম রয়েছে। জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত সাত দিন এবং সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ দিন সময় লাগে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানা গেছে। সাধারণ নবায়নের জন্য ১০০ টাকা এবং জরুরি নবায়নের জন্য ১৫০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে।

এই প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে নাগরিকরা নিয়মিতই নির্ধারিত ফি দিয়ে নতুন কার্ড সংগ্রহ করছেন। কার্ড হারানোর ক্ষেত্রে প্রথমবার সাধারণ আবেদনের ফি ২০০ টাকা এবং জরুরি ফি ৩০০ টাকা ধরা হয়। দ্বিতীয়বার সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা ও জরুরিতে ৫০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিবারের জন্য সাধারণ ৫০০ টাকা ও জরুরি আবেদনের জন্য ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে। বর্তমানে নবায়ন বাধ্যতামূলক করার পুরো বিষয়টি পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা জানিয়েছেন।