জুলাই ২, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
দেশের সামগ্রিক ঔষধনীতি সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং দেশীয় ঔষধ খাতের নীতিগত দিকনির্দেশনা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ২৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। পুনর্গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ পরিষদে সভাপতি হিসেবে প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন একই মন্ত্রণালয়ের সচিব। নতুন এই প্রশাসনিক আদেশে কাউন্সিলে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বা বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বা এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের।
এর আগে গত ২১ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সভাপতি করে ২২ সদস্যের একটি পরিষদ গঠন করা হলেও নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগের সেই আদেশটি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে জানানো হয়েছে যে নতুন এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে। পুনর্গঠিত এই বিশেষ পরিষদ বছরে অন্তত দুবার আনুষ্ঠানিক সভায় মিলিত হবে, তবে বিশেষ প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি সভা আহ্বান করার এবং অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার পূর্ণ সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই উচ্চপর্যায়ের কাউন্সিলে অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, অর্থ বিভাগের সচিব, লেজিসলে ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং খাদ্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিবেরা। এছাড়াও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দেশের শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব এতে যুক্ত থাকবেন।
একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বা বিএপিআই ও বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতিরা এই পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন এই পরিষদ মূলত সরকারকে জাতীয় ঔষধনীতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনুযায়ী জীবনরক্ষাকারী ঔষধ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণে কাজ করবে।
এছাড়াও অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা প্রণয়ন ও প্রতি দুই বছর অন্তর তা নিয়মিত হালনাগাদ করা এবং ঔষধ ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে সরকারকে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেবে এই পরিষদ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং ঔষধ উৎপাদন, আমদানি, বিতরণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কার্যকলাপে সমন্বয় সাধন এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারকে বিশেষ পরামর্শ প্রদান করবে এই পুনর্গঠিত কমিটি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন