রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ২৩, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। চলতি জুলাই মাস থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রাথমিক ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় চাকরিজীবীদের একাংশের মধ্যে কিছুটা ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে নতুন পে স্কেল চালুর বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই বেতন কাঠামো একসঙ্গে নয়, বরং ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাবেক সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে নবম পে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। প্রায় ছয় মাস ধরে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পর একুশ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিশন কর্মচারীদের মূল বেতন একশ থেকে একশো বিয়াল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেয়। 

তবে সেই সুপারিশগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন তৎকালীন সরকারের মেয়াদে সম্ভব না হওয়ায় বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ওপর এর দায়দায়িত্ব এসে পড়ে। চলতি অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই বেতন কাঠামোর ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী, যার পর থেকেই সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন পে স্্কেলের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা কেমন হবে এবং বিগত কমিশনের দাখিল করা সুপারিশগুলোতে শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের কাটছাঁট করা হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করার জন্য একটি বিশেষ সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে আগামী দিনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবে। 

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের কঠিন বাস্তবতা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি ক্রমান্বয়ে এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি এই বিরাট অংকের আর্থিক সিদ্ধান্ত সফল করতে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আহরণ ও আয় বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।

নীতিনির্ধারণী মহলের তথ্য অনুযায়ী, সচিব কমিটির চলমান বৈঠকগুলোর অগ্রগতি এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে নতুন পে স্্কেলের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির সুনির্দিষ্ট সময়। দীর্ঘমেয়াদি এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে তা সরকারি চাকুরিজীবীদের আর্থিক সংকট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা লাখ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন সরকারের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।