রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৩১ জুলাই, মার্চ ফর জাস্টিস‍‍` কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা ও সংঘর্ষ

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ৩১, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

৩১ জুলাই, মার্চ ফর জাস্টিস‍‍` কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা ও সংঘর্ষ

ছবি : সংগৃহীত

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে হত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা ও গুমের প্রতিবাদে সারা দেশে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। নির্ধারিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। কর্মসূচি পালনকালে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।সব মিলিয়ে দেশজুড়ে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মুক্তি, শিক্ষার্থী হত্যা ও গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তিসহ ৯ দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের মঙ্গলবার রাতে টেলিগ্রাম অ্যাপে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বুধবার দুপুর বারোটার দিকে হাইকোর্টের মাজার গেট এলাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জড়ো হন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করে। শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশ শেষ করে।

সিলেটে কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ বাধা দিলে শিক্ষার্থীরা তা অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে শিক্ষার্থীসহ অন্তত কুড়িজন আহত হন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি পালন করেন। এসব ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বৃহস্পতিবার ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ নামে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলন ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা এক চিঠিতে ভবিষ্যৎ নির্যাতন এড়াতে দীর্ঘ মেয়াদে নিরাপত্তা খাতের সংস্কার জরুরি বলে উল্লেখ করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে কঠোর অবস্থান নেয়। কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পনেরো দিনে সারাদেশে দশ হাজার সাতশত পঁয়ত্রিশ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেপ্তার হন আরও তিনশত একচল্লিশ জন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রসিদকে গোয়েন্দা বিভাগ থেকে সরিয়ে ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগে বদলি করা হয়। তাঁর স্থলে ডিবির নতুন দায়িত্ব পান মহা. আশরাফুজ্জামান।