শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,
জ্বালানি পরিকল্পনা

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরছে আজ

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১০:২০ এএম

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরছে আজ

ছবি: সংগৃহীত

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আজ মঙ্গলবার থেকেই আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিন ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় তিনি এই আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে সরকারের দশ বছর মেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ফেরাতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে মাঠে নেমেছে। মতবিনিময় সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি বিশদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যা, যা ছয় মাস বা এক বছরে পুরোপুরি নিরসন সম্ভব নয়। 

তিনি জানান, দেশের দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনালের একটিতে আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণেই মূলত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছিল। ওই কারিগরি জটিলতা সমাধান হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের পর্যায়ে ফিরে যাবে।

ঘাটতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর কাজও এগোচ্ছে। সরকারপ্রধান জানান, জিটুজি ভিত্তিতে তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের যাবতীয় প্রস্তুতি গত এক মাসে গুছিয়ে আনা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করে আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এই টার্মিনাল জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবসা ও শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার অভিঘাত পুরো অর্থনীতির ওপর পড়ে বলেই জ্বালানি সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা সরকারের এই তাৎক্ষণিক ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমপ্লিট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই সংকট পূর্ববর্তী অবস্থায় ফেরার আশ্বাস ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, পাইপলাইনে সরবরাহ ইতিমধ্যে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে; গত শুক্রবার সন্ধ্যায় যেখানে জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট, রবিবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩৬০ মিলিয়ন ঘনফুটে।