শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশ্বকাপে না যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

বিশ্বকাপে না যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অংশ না নেওয়ার বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত তদন্ত কমিটি তাদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ছয় মাসের তদন্ত শেষে মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর পেছনে পুরো দায় তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ওপর চাপানো হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিস্তারিত অবস্থান তুলে ধরেছেন সাবেক এই উপদেষ্টা।

ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত তাঁরই ছিল এবং বিষয়টি তিনি আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে স্পষ্ট করেছেন। তাই দীর্ঘ সময় পর মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন এবং বিষয়টি ফলাও করে প্রকাশের কারণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। ঘটনার সূত্রপাত বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পরই মূলত নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ হিসেবে সেখানে খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করা হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কা অমূলক ছিল না এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রথম প্রতিবেদনেও তার সুস্পষ্ট স্বীকৃতি ছিল। সেই মূল্যায়নে ভারতে নিরাপত্তা সংকটের তিনটি কারণের মধ্যে ছিল বিশ্বকাপ দলে মুস্তাফিজের অন্তর্ভুক্তি, বাংলাদেশি সমর্থকদের মুক্তভাবে চলাচলের পরিবেশ এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপট। এই পরিস্থিতির মধ্যে বিকল্প ভেন্যুতে টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করে সমর্থন পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবের কারণে তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি। একই সাথে দল পাঠানোর বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো কার্যকর যোগাযোগ করা হয়নি বলে তিনি জানান।

আসিফ নজরুল জানান, তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয় অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ছিল—দেশের সামগ্রিক মর্যাদা রক্ষা, ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা বিধান এবং নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছোট দেশ বিবেচনায় অযৌক্তিক অপমান মুখ বুজে মেনে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং তিনি সমমর্যাদার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্কে বিশ্বাসী, মাথা নত করে আপস করার নীতিতে নয়।