শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬,
ছাদে সৌরবিদ্যুৎ

স্থানীয় সরকারে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ: লক্ষ্য ৩০০ মেগাওয়াট

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

স্থানীয় সরকারে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ: লক্ষ্য ৩০০ মেগাওয়াট

স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও হাটবাজারগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় ধরনের এক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদর দপ্তর, সারা দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সমূহ, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং সারা দেশের মোট ৬ হাজার ৫৪৪টি হাটবাজার বা গ্রোথ সেন্টারের পরিত্যক্ত ছাদে এই সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বরাদ্দ থেকে এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ৩৭০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ছাড় করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থাকে আলাদা চিঠি পাঠিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছাদে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি মানসম্মত আর্থিক মডেল নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয়। কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রাক্কলন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে প্রতিটি ভবনের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌর প্যানেল বসাতে খরচ হবে আনুমানিক ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এই প্রাক্কলিত ব্যয়ের ভিত্তিতে দেশের নিজস্ব ভবন থাকা প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

হাটবাজারের ছাদ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সারা দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি হাটবাজারের উন্নয়নের জন্য উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, নীতিমালায় তার ১৫ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ অর্থ সংশ্লিষ্ট হাটের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয়ের নিয়ম রয়েছে। সেই নির্ধারিত অর্থ ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আলাদা চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে যাতে তারা সংশ্লিষ্ট হাটের শেড বা ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল নির্মাণ করেন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করেন।

এই মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি কার্যকর বাণিজ্যিক রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে। পরিত্যক্ত ছাদ ব্যবহার করে উৎপাদিত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দৈনন্দিন কাজে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করবে। অবশিষ্ট ১৫০ মেগাওয়াট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্যাকেজের নেট মিটারিং নীতিমালার আওতায় প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে অর্থ পায়, তবে প্রকল্প বাবদ ব্যয়িত পুরো অর্থ আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যেই পুরোপুরি উঠে আসবে।