অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটাতে কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করেছেন। রাজধানী ঢাকার গুলশানে নিজের বাসভবনের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে এক হাজার ইউনিট তিনি নিজে ব্যবহার করেছেন এবং অতিরিক্ত এক হাজার দুইশত ইউনিট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছেন। শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সমবায় ভবনে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই তথ্য জানান।
গত তিন দিনেই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সমবায় ভবন থেকে শুরু করে দেশের সব সরকারি ও জাতীয় ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াকে বাণিজ্যিক ও লাভজনক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকদের অংশগ্রহণে সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা শীর্ষক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।
সামনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাতে পারে উল্লেখ করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে সমাজে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেজন্য প্রশাসনিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সরকার এ কাজে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।
ইউএনওদের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র মানুষ সরাসরি তাদের কাছে সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন। প্রতিটি উপজেলায় ইউএনওদের অনুকূলে একটি বিশেষ ঐচ্ছিক তহবিল গঠন করা জরুরি, যাতে স্থানীয় দুস্থ মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই ফান্ডের অর্থ জোগান দিতে না পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নিজেদের সংগৃহীত রাজস্ব খাত থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সাথে উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যুতের নেট মিটারিং পদ্ধতি স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত মীমাংসা করার তাগিদ দেন তিনি।
মাঠপর্যায়ে সরকারের বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, পারিবারিক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন কার্ড বিতরণ ও খাল খনন কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো তারা সরাসরি তদারকি করছেন। জেলা প্রশাসক সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্যও বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে সরাসরি মাঠের উন্নয়ন চিত্র ও স্থানীয় দাবিগুলো সরকারপ্রধানের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত এবং নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেন মীর শাহে আলম। তিনি অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনকালে সরকারের অবৈধ হুকুম তামিল করতে গিয়ে বহু সরকারি কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন, কিন্তু বর্তমান সরকার কাউকে রাতের আঁধারে ভোট করতে কিংবা ডামি নির্বাচন পরিচালনার কোনো অনৈতিক নির্দেশ দেবে না।
দলীয় শৃঙ্খলা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তার দল কোনো দ্বিধা করছে না। মিরপুরের অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত ভুলের দায়ভার সরকার কখনোই বহন করবে না। এর পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নদী ও ভূ-উপরিস্থ জলাশয়ের পানি পরিশোধনের ওপর জোর দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন