বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,

সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল

সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে ঢাকার আকাশপথে। চার দিনে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী ১০০টি উড়োজাহাজের যাত্রা বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। আকস্মিক এই অচলাবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী। তাদের বড় অংশই জীবিকার তাগিদে ফিরে যেতে চাওয়া প্রবাসী শ্রমিক, যাদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষের পথে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি বিভিন্ন দেশের ওপর দিয়ে যাওয়া ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল। শনিবার থেকে শুরু হয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে। সংস্থাটির মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটানো কঠিন হবে।

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও উড়োজাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই বিমানবন্দরে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে। তবে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে কিছুটা সমস্যা হলেও বর্তমানে সেখানে ফ্লাইট ওঠানামা স্বাভাবিক।

বাতিল হওয়া ৪১টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং সাতটি করে রয়েছে রিয়াদ এয়ারওয়েজ ও সৌদিয়া এয়ারলাইনসের। ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, সাতটি করে কাতার এয়ারওয়েজ ও সালামএয়ারের, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের বিভিন্ন দেশে যাত্রাবিরতি দিয়ে রিয়াদ ও দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকেও তারা যাত্রী নেওয়া বন্ধ রেখেছে।

সংকট সামাল দিতে সরকারের নির্দেশনায় এয়ারলাইনসগুলো যাত্রীদের বিকল্প বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইটে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে টিকিট রূপান্তর করে দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু আসন সংকটের কারণে বিকল্প পথও মসৃণ হচ্ছে না।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন কর্মকর্তা জানান, যাদের ভিসার মেয়াদ একদম শেষের দিকে, তাদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে নিয়মিত ফ্লাইটগুলোতে আগে থেকেই বুকিং পূর্ণ থাকায় খালি আসন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক যাত্রী টিকিট পরিবর্তন করেও তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না। উড়োজাহাজের শতভাগ আসন ব্যবহার নিশ্চিত করতে গিয়ে কখনো ওভারবুকিংয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এমনকি অভিবাসন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পরও কিছু যাত্রীকে ফিরিয়ে এনে পরবর্তী ফ্লাইটে পাঠাতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বিকল্প পথের খোঁজে বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসীদের ভিড় বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের মেঘ না কাটলে সংকট সহসায় কাটছে না।