রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তালেবানকে ভারত স্বাগত জানাচ্ছে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ১০:০৩ এএম

তালেবানকে ভারত স্বাগত জানাচ্ছে

ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি গত ১০ অক্টোবর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে এক বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকটি বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তালেবানদের সঙ্গে ভারতের লেনদেনের কৌশলটি কতটা নড়বড়ে বা পরিবর্তনশীল। ২০২১ সালের আগস্টে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর তালেবানের একজন নেতাকে ভারতের সরকারিভাবে আতিথেয়তা জানানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল। খুব কম মানুষই এমনটা ঘটার আশঙ্কা করেছিলেন।

বৈঠকটি হলেও ভারতের কর্মকর্তারা অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। তারা মুত্তাকিকে ‘আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তালেবান সরকারের নাম একবারও নেননি। এমনকি বৈঠকের কক্ষে কোনো অফিশিয়াল পতাকাও রাখা হয়নি। সেখানে না ছিল পুরোনো আফগান প্রজাতন্ত্রের পতাকা, না ছিল তালেবানদের সাদা ব্যানার। যদিও আফগান দূতাবাসের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। দূতাবাসের বাইরে প্রজাতন্ত্রের পুরোনো তিনরঙা পতাকা উড়লেও, মুত্তাকি এবং তার টিম ভেতরে তালেবানের সাদা পতাকা ব্যবহার করেছেন এবং দূতাবাসটি তালেবানদের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।

এই ঘটনা প্রমাণ করে, ভারত এখন বাস্তববাদিতা আর বাস্তব রাজনীতির পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে। এর অর্থ হলো, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও বাস্তব চাহিদা আর জাতীয় স্বার্থে নয়াদিল্লিকে মনোযোগ দিতে হচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরেই ভারত তালেবানদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। জানুয়ারিতে মুত্তাকি ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে দুবাইয়ে দেখা করেন। এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর মুত্তাকি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। এমনকি মে মাসে জয়শঙ্কর ও মুত্তাকি ফোনেও কথা বলেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তালেবানদের সঙ্গে ভারতের এই বিনিময় দ্রুত বাড়ার একটি কারণ হলো নয়াদিল্লির 'অপারেশন সিঁদুর', যা পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের মোকাবিলার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। একই সঙ্গে, তালেবানরা ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। এটি ভারতের জন্য তালেবানদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, যেখানে ভারত নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করতে চায়।

আঞ্চলিক অন্য দেশগুলোও ধীরে ধীরে তালেবানদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। রাশিয়া জুন মাসে প্রথম দেশ হিসেবে তালেবানদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং চীন ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো রাষ্ট্রদূত বিনিময় করেছে। এই ভূ-রাজনৈতিক চাপও ভারতকে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য করছে।

অন্যদিকে, তালেবান সরকারও ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। তারা কূটনৈতিক পরিসরে বৈচিত্র্য এনে নিজেদের বৈধতা নিশ্চিত করতে চায়। ‘কারো শত্রু নয়, সবার বন্ধু’— এই কৌশলের মাধ্যমে তারা নিজেদের একটি বাস্তববাদী ও অর্থনীতি-কেন্দ্রিক সরকার হিসেবে পরিচিত করাতে চাচ্ছে। ভারত সর্বশেষ দেশ হিসেবে তালেবানের এই ধারণাটি গ্রহণ করেছে বলে মনে হচ্ছে। বৈঠকের পর উভয় পক্ষের যৌথ বিবৃতি এবং আফগানিস্তানের উন্নয়নে ভারতের সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই বাস্তববাদী লেনদেনেরই ইঙ্গিত দেয়।