মো: মামুনুর রশিদ
ডিসেম্বর ১০, ২০২৫, ০৬:০৬ পিএম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, "আমরা কোনো দল বা কারও বিরুদ্ধে নই, কিন্তু কেউ যদি দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ হয়, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।" তিনি বলেন, আমরা চাই— উদারতার রাজনীতি, সহনশীলতার রাজনীতি, মানুষের কল্যাণের রাজনীতি।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে দিনাজপুর ইন্সটিটিউট মাঠে দিনাজপুর-৩ উন্নয়ন ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ছাত্র-যুব-নাগরিক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে শিবির সভাপতি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন, "আগামী দিনে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাবিক আমাদের প্রয়োজন। যারা দেশকে সততার সাথে, দক্ষতার সাথে, দেশকে ভালোবেসে দুর্নীতিমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে। দেশের সকল ছাত্র-জনতা এমন নেতার পাশে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ।"
রাজনৈতিক সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদের অভিযোগ
শিবির সভাপতি বলেন, "১৯৭১ সালে যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তারপরেই যে দল নিজেদেরকে স্বাধীনতার কর্তৃত্ববাদী মনে করে— সে দলের হাতেই বাংলাদেশের সকল দলকে নিষিদ্ধ করে বাকশাল কায়েম করে। তারা রক্ষী বাহিনী গঠন করে তাদের বিরোধীতাকারী এবং দেশের পক্ষে কথা বলা লোকদের হত্যা করেছিল।"
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নির্মম সন্ত্রাসের উদাহরণ হলো: "২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে লাশের উপর পৈশাচিক কায়দায় নৃত্য করেছিল।" এছাড়া তিনি পিলখানা ট্রাজেডি, শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের হত্যা এবং গুম-খুন-আয়নাঘরে নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন।
ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান
জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই অবস্থা যখন চলছিল, তখন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে বৈষম্য-দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একসাথে জেগে উঠেছিল দেশের ছাত্র-জনতা। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় খুনী হাসিনার পতন তরান্বিত হয়। তিনি বলেন, "তাই এখনও আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকলে আর কোনোদিন কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না।"
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাঈনুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
দিনাজপুর সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মেহরাব আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা নুরুল্লাহ সরকারসহ ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন ও জাগপার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।