শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ সালাহউদ্দিন তানভীরের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ সালাহউদ্দিন তানভীরের

কারাগার ও পুলিশ রিমান্ডে থাকাকালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার নামে ভুল চিকিৎসা দিয়ে শরীর অবশ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সংবাদ সম্মেলনে তানভীর দীর্ঘ সময় সরাসরি কথা বলতে পারেননি। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত।

লিখিত বক্তব্যে তানভীর দাবি করেন, গত ৫ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তির পূর্ব পর্যন্ত কারাগারে ও রিমান্ডে তাঁর ওপর নজিরবিহীন নির্যাতন চালানো হয়েছে। বাইরে মুখ খুললে পরিবারের সদস্যদের গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বগুড়া সদর থানা বিএনপির এক নেতা ওই মামলার বাদী হন। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মনিপুরীপাড়ার একটি বাসা থেকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর বগুড়া জেলা কারাগারের একটি অস্বাস্থ্যকর ও বিদ্যুৎবিহীন কক্ষে তাঁকে রাখা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেখানে কারারক্ষী ও আওয়ামী লীগের বন্দিরা তাঁকে রাজনৈতিক পরিচয়ে গালিগালাজ করতেন এবং দুই দিনের পচা খাবার পরিবেশন করতেন। পচা খাবার খেয়ে তিনি মারাত্মক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ না দিয়ে অজানা ওষুধ ও শরীরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি অজ্ঞাত ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে ইনজেকশন দেওয়ার পর তাঁর ডান হাত ও ডান পা সম্পূর্ণ অবশ হয়ে যায়।

চিকিৎসক স্ট্রোকের কথা বললেও কারা কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে। পরবর্তীতে নষ্ট এমআরআই মেশিনে ঢোকানোর পর বিকট শব্দে যন্ত্রটি বন্ধ হয়ে গেলে কোমর থেকে পা পর্যন্ত প্যারালাইজড হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় অচেতন ছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। উন্নত চিকিৎসার নামে পরবর্তীতে তাঁকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে পুলিশ ভ্যানে সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি উঠে তাঁর ওপর নতুন করে নির্যাতন চালায়। এ সময় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ ও সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম উচ্চারণ করে ভয়ভীতি দেখানো হতো। তানভীর আরও দাবি করেন, কারাগারে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী বন্দিরা বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন এবং রাতে তাঁদের বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। 

তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার কারণেই তাঁর ওপর নিপীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের ফলে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে মলমূত্র ত্যাগ করতে না পারায় তাঁকে বিশেষ চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হচ্ছে। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সত্য উদঘাটনে অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানান।