সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, সুপারিশ ও দলীয় নেতার ফোনের সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই উদ্বেগের কথা জানান। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থী বাদ পড়া এবং ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে বিভিন্ন জেলার অন্তত এক হাজার প্রার্থী বাদ পড়েছেন। অথচ নিয়োগের শুরুতে কেবল নাশকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকাকেই অযোগ্যতার কারণ হিসেবে শর্ত দেওয়া হয়েছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন তরুণ বছরের পর বছর পড়াশোনা করে পরীক্ষা ও মৌখিক ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যদি পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় বা স্থানীয় নেতার কাছে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যেতে হয়, তবে সেটি পুরো নিয়োগব্যবস্থার চরম সংকট।
একই সঙ্গে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার সরকারি প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। দক্ষ জনবল বাছাইয়ের কথা বলা হলেও এর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ওই সংসদ সদস্য চাকরিপ্রার্থীদের প্রবেশপত্র নিয়ে এলে সংশ্লিষ্ট স্থানে ফোন করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সতর্ক করে বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তরুণরা পরিবর্তন এনেছে। নতুন করে মেধার বদলে দলীয় পরিচয় বা নেতার ফোনের সংস্কৃতি ফিরে এলে তরুণ সমাজ রাজপথ ও ব্যালটের মাধ্যমে রাজনৈতিক জবাব দেবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, চাকরির জন্য প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাই যেন একমাত্র পরিচয় হয়, পরিবারের রাজনীতি বা কোনো প্রভাবশালী নেতার সুপারিশ নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন