ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৫:৫১ পিএম
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরেই অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়ার পাশে ছুটে গিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট) আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা শেষ করে তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন।
বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। এর আগে সংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগাল্পুত কণ্ঠে তিনি তার মায়ের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
তারেক রহমান বলেন যে একজন সন্তান হিসেবে তার মন সবসময় মায়ের অসুস্থ বিছানার পাশেই পড়ে ছিল কিন্তু জনগণের ভালোবাসার টানে তাকে আগে সংবর্ধনাস্থলে আসতে হয়েছে।
গণসংবর্ধনায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তারেক রহমান তার মায়ের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন যে বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের মাটি ও মানুষকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছেন। তার ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে এবং তিনি যেভাবে জেল-জুলুম সহ্য করেছেন তা দেশবাসী ভালো করেই জানে। বর্তমানে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে অতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সরকারের বিশেষ মর্যাদায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৩ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং মাঝে তাকে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণেও রাখা হয়েছিল।
মায়ের বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে তারেক রহমান অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সবার কাছে আল্লাহর দরবারে দোয়ার আবেদন জানান।বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতাকর্মীদের কড়া নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন যে আমাদের যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি বা ষড়যন্ত্রের মুখে পা না দিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বারবার উচ্চারণ করেন যে আমরা দেশে শান্তি চাই।
তিনি স্পষ্ট করে দেন যে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হলে বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য তার যে বিশেষ পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান’ রয়েছে তা বাস্তবায়নে তিনি দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।পরিশেষে তারেক রহমান মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করেন। তিনি বলেন যে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়।
যদি দেশবাসীর ওপর আল্লাহর রহমত থাকে তবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তার হাসপাতালে যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ তাকে অভিবাদন জানায়। হাসপাতালে পৌঁছে তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে মায়ের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং দীর্ঘ সময় মায়ের পাশে অবস্থান করেন। তার এই দেশে ফেরা এবং মায়ের প্রতি এই আবেগ দেশের মানুষের মনে এক গভীর রেখাপাত করেছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন