সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান

শীর্ষ দুই নেতার সাক্ষাৎ

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে তিনি জামায়াত আমিরের বাসায় পৌঁছান। সেখানে পৌঁছালে ডা. শফিকুর রহমান তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। 

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই শীর্ষ নেতার এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। 

অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আগামীদিনের কর্মপরিকল্পনা এবং দুই দলের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, এই সাক্ষাৎ তারই একটি প্রতিফলন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পর দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এমন সশরীরে উপস্থিতিতে বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

এর আগে দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে কাজ করলেও মাঝখানে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে গুঞ্জন ছিল। তবে রোববারের এই বৈঠক সেই ধারণা দূর করে নতুন এক রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।বৈঠক শেষে দুই দলের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না এলেও উপস্থিত নেতারা জানিয়েছেন এটি ছিল মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। তবে পর্দার আড়ালে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে কথা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। 

তারেক রহমান দেশ পরিচালনায় সবার সহযোগিতা চাওয়ার পর জামায়াত আমিরের সঙ্গে এই আলাপচারিতা আগামীদিনের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার যে প্রতিশ্রুতি বিরোধী দলগুলো দিচ্ছে, সেখানে এই দুই দলের সুসম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মাঝেও এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। দেশের শীর্ষ এই দুই রাজনৈতিক দলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।