সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তারেক রহমানকে আগাম অভিনন্দন জামায়াত আমিরের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

তারেক রহমানকে আগাম অভিনন্দন জামায়াত আমিরের

দুই নেতার ঐতিহাসিক বৈঠক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আগাম অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার রাতে নিজের আবাসিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান। জামায়াত আমির এই সফরকে জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই ধরনের সংলাপ ও দায়িত্বশীলতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পরিপক্কতার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন যেখানে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।

আলোচনায় জামায়াত আমির দেশের বর্তমান স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিশেষ করে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

তারেক রহমান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে নির্বাচনের পর কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা রোধে তিনি কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। জামায়াত আমির এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন যে দেশের কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয় সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে ১১ দলীয় জোটের সাথে মিলে একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।

দেশের জাতীয় স্বার্থে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের ঘোষণা দিলেও একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান যে সরকারের জনকল্যাণমূলক সকল কাজে তাদের সমর্থন থাকবে তবে যেখানেই জবাবদিহিতার প্রশ্ন আসবে সেখানেই তারা সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন। 

জামায়াত আমিরের মতে তাদের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই সংঘাত নয় বরং গঠনমূলক সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনাকে সঠিক পথে রাখা। দেশের মানুষ এখন এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করছে যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই বৈঠকের মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার রাজনৈতিক রসায়ন নতুন একটি মাত্রা পেল বলে ধারণা করা হচ্ছে যা আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।