সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যেকোনো হামলা রোধের আশ্বাস দিয়েছেন তারেক রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

যেকোনো হামলা রোধের আশ্বাস দিয়েছেন তারেক রহমান

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা রোধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়ে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। 

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে রাত আটটার দিকে তারেক রহমান জামায়াত আমিরের বাসভবন ত্যাগ করেন। 

এই সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভোটের পর সারা দেশে শান্তি বজায় রাখতে দুই বড় দলের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।সাক্ষাৎ পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান। 

তিনি উল্লেখ করেন যে তারেক রহমানের এই আগমন জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। ডা. শফিকুর রহমান জানান যে তাদের আলোচনায় তারেক রহমান তাকে স্পষ্টভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে বিরোধী দলের কর্মী কিংবা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো ধরনের হামলা বা নির্যাতন বরদাশত করা হবে না। এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন যে তারা এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত ও সার্বভৌম এবং যেখানে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 

দেশের কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয় সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য।জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন যে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে নির্বাচিত সরকারকে তারা পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবেন তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে জামায়াতে ইসলামী সবসময় আপসহীন থাকবে। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে সমর্থন থাকলেও যেখানেই জবাবদিহিতার অভাব দেখা দেবে সেখানেই তারা সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন। 

সংঘাতের পরিবর্তে সংশোধন এবং বাধার পরিবর্তে পর্যবেক্ষণের রাজনীতি করার অঙ্গীকার করেন তিনি। বৈঠকে তারেক রহমানের সাথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই সরাসরি আলাপ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।