এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পক্ষে এক চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই রাজনৈতিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়া এই নেতার এমন মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাশেদ খান তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, যেহেতু অতীতে ছাত্রলীগ করা ব্যক্তিরা বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি করতে পারছেন, তবে অতীতে আওয়ামী লীগ করা ব্যক্তিরা কেন ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ হিসেবে রাজনীতি করতে পারবেন না। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ একটি বিশাল রাজনৈতিক দল।
এই বিশাল জনবলকে আন্ডারগ্রাউন্ডে বা আত্মগোপনে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তাদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত।নিজের প্রস্তাবে তিনি আরও কিছু বিকল্প পথ বাতলে দিয়েছেন। রাশেদ খানের মতে, আওয়ামী লীগের সদস্যদের কেউ এনসিপিতে, কেউ জামায়াতে, আবার কেউ চাইলে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ হিসেবে নতুন কোনো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। বিষয়টিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি।
এই প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রাশেদ খান আশা প্রকাশ করে লেখেন, মাননীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এতে কোনো আপত্তি থাকবে না। তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, হাসনাত আব্দুল্লাহ যেন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এই পুনর্বাসনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটের মাধ্যমে তা পাস করিয়ে আনেন।
মুহাম্মদ রাশেদ খানের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি নুরুল হক নুরের সঙ্গে রাজপথে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে গণঅধিকার পরিষদ গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তবে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিনি আকস্মিকভাবে দলটির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন। নির্বাচনের পর তার এই আকস্মিক ‘আওয়ামী পুনর্বাসন’ তত্ত্ব এখন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাশেদ খানের এই অবস্থান বিএনপির দলীয় অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন