এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি সংসদ অধিবেশনে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই দাবি তোলেন।
রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে জানান, মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির ঘাটতি, কৃষি ও জ্বালানিপণ্য আমদানি, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়, আমেরিকা থেকে সে পরিমাণ পণ্য আমদানি হয় না। এই বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই চুক্তিটি করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে এই চুক্তি সই হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, তখন দেশের সুশীল সমাজ ও থিঙ্কট্যাংক মহল থেকে বলা হয়েছিল যে একটি অনির্বাচিত সরকার এ ধরনের চুক্তি সই করতে পারে না। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তিতে অনেকগুলো ধারা আছে যা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। নির্বাচিত সরকার আসার পর এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও গত ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি স্বাক্ষর করে।
বক্তব্য চলাকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুমিন ফারহানাকে থামিয়ে দিয়ে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০১ নম্বর বিধি উল্লেখ করেন। স্পিকার বলেন, এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। ৩০১ বিধি অনুযায়ী পয়েন্ট অব অর্ডার সংসদের চলমান বিষয়ের ওপর অথবা শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য হতে হয়। তিনি রুমিন ফারহানাকে একটি নতুন প্রশ্ন উত্থাপনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে নোটিশ দিলে তা বিবেচনা করে দেখা হবে।
স্পিকারের বক্তব্যের পর রুমিন ফারহানা আরও এক মিনিট সময় চেয়ে নিয়ে বলেন, এই চুক্তি ৬০ দিনের মধ্যে যদি সরকার চায় তবে তারা বাতিল করতে পারে। তাই চুক্তিটি সংসদে উপস্থাপন করা হোক। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পুনরায় জানান যে তিনি এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে পারছেন না। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সংসদের সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন