নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ১০:৩৫ এএম
মৃত্যু মানবজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য সত্য এবং দুনিয়া হলো সেই পরীক্ষার হল, যেখানে সফল হয়ে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত লাভ করতে হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, "জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।" (সুরা কাহাফ: ৭)
মৃত্যুর পর প্রত্যেকের কাছে তার চিরস্থায়ী আবাসস্থল (জান্নাত বা জাহান্নাম) তুলে ধরা হয়। কিন্তু কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে যখন মানুষ নিজের ভাই,
মা, পিতা, স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকেও পালাবে (সুরা আবাসা: ৩৪-৩৭), তখন পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হবে যে, কেউ কারও দিকে তাকানোর কথা কল্পনাও করতে পারবে না। (মুসলিম: ৬৯৩৪)
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সফলকাম হতে নবীজি (সা.) উম্মতদের যেমন নানা নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছেন, তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। তবে একটি বিশেষ হাদিসে তিন ব্যক্তির কথা এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিজেই বাদী হবেন।রাসুল (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে ৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হব
১. যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে: এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, যারা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার, চুক্তি বা কসম করে তা পূরণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তায়ালা নিজেই দাঁড়াবেন।
২. যে কোনো আজাদ (মুক্ত) মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে: স্বাধীন মানুষকে অন্যায়ভাবে পরাধীন করে বিক্রি করা বা মানব পাচার করে তার অর্থ ভোগ করাকে আল্লাহ তায়ালা সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছেন।
৩. যে কোনো মজুর (শ্রমিক) নিয়োগ করে তার থেকে পুরো কাজ আদায় করল এবং তার পারিশ্রমিক দিল না: শ্রমিককে দিয়ে তার প্রাপ্য অধিকার ও পারিশ্রমিক না দেওয়াকে ইসলামে গুরুতর পাপ হিসেবে দেখা হয়। শ্রমিকের অধিকার হরণকারী সরাসরি আল্লাহর ক্রোধের শিকার হবেন।
এই হাদিসটি মূলত ওয়াদা, মানব অধিকার এবং শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইসলামে কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন