রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রবাসীদের সুখী পরিবার গঠনের সহজ ২ উপায়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

প্রবাসীদের সুখী পরিবার গঠনের সহজ ২ উপায়

বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা যখন পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চান, তখন তাদের একটি বড় অংশই এক অদ্ভুত সংকটের মুখোমুখি হন। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া বা কোরিয়া; যেখানেই আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা থাকুন না কেন, তাদের একটি অতি পরিচিত অনুযোগ হলো মা ও স্ত্রীর মধ্যকার ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারা। 

অনেক সময় তারা আক্ষেপ করে বলেন যে না পারেন মাকে খুশি করতে, না পারেন স্ত্রীকে। মায়ের কাছে গেলে স্ত্রীর নামে নালিশ শুনতে হয়, আবার স্ত্রীর কাছে গেলে মায়ের নামে অনুযোগ আসে। এই দ্বিমুখী চাপে অনেক প্রবাসী ভাই মানসিকভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েন।

এই জটিল সমস্যার সমাধানে জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও কার্যকর দুটি উপায়ের কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পারিবারিক জীবনে সুখী হতে হলে পুরুষকে মাঝে মাঝে কৌশলী হতে হয়, যাকে তিনি কিছুটা মজা করে ‘বেকুব’ বা ‘বোকা’ সাজা হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

পারিবারিক শান্তি রক্ষায় সব জায়গায় অতিরিক্ত বুদ্ধিমত্তা বা চালাকি সবসময় ইতিবাচক ফল আনে না।পরিবারের দ্বন্দ্বে অনেক পুরুষ সাধারণত বোকামি করে বসেন যখন তারা এক পক্ষের কথা শুনে অন্য পক্ষের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। স্ত্রী যখন শাশুড়ি বা ননদের নামে কিছু বলে, তখন স্বামী যদি স্ত্রীর সাথে কঠোর আচরণ করেন, তবে দূরত্ব আরও বাড়ে। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, বুদ্ধিমান পুরুষ সেই যে স্ত্রীর অভিযোগের সময় সরাসরি পক্ষ না নিয়ে বরং স্ত্রীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে। 

আপনি কৌশলে বলতে পারেন যে মায়ের এমন ব্যবহারে আপনিও কষ্ট পেয়েছেন এবং ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে আপনি মাকে কিছু বলতে পারছেন না। এই সামান্য সহানুভূতি স্ত্রীর মনকে শান্ত করে দেয় এবং সে অনুভব করে তার স্বামী অন্তত তার কষ্টটা বুঝতে পেরেছেন।

একই কৌশল অবলম্বন করতে হবে মায়ের ক্ষেত্রেও। মা যখন স্ত্রীর নামে কোনো নালিশ করবেন, তখন মায়ের সাথে তর্কে না জড়িয়ে তাঁকে বোঝাতে হবে যে আপনি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী স্ত্রীর প্রতি কঠোর হওয়া বা গায়ে হাত তোলা সম্ভব নয়—এমন ধর্মীয় যুক্তি মায়ের ক্ষোভ প্রশমিত করতে সহায়তা করে। এতে মা ভাববেন তাঁর সন্তান ধর্মপ্রাণ এবং কিছুটা সহজ-সরল হওয়ার কারণে কিছু বলতে পারছে না। এই বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশলের মাধ্যমে মা ও স্ত্রী উভয়ের ভালোবাসা ও সম্মান অটুট রাখা সম্ভব।

ইসলামি এই জীবন দর্শনে দাম্পত্য সুখের জন্য দুটি জিনিসকে অপরিহার্য বলা হয়েছে। একটি হলো সবর বা ধৈর্য এবং অন্যটি শোকর বা কৃতজ্ঞতা। শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে পশ্চিমা বিশ্ব অনেক দূর এগিয়ে থাকলেও পারিবারিক সুখ ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আমাদের ইসলামি মূল্যবোধ অনেক বেশি সমৃদ্ধ। এই গুণগুলোর সঠিক সমন্বয় করতে পারলে একজন প্রবাসীর পারিবারিক জীবন হয়ে উঠতে পারে জান্নাতি ও প্রশান্তিময়।