রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১০, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

অনেকেই মনে করেন ইসলামে সৌন্দর্য বা পরিপাটি জীবনযাপনের মূল্য নেই। অথচ ইসলাম আত্মিক পবিত্রতার পাশাপাশি বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা ও শালীন রুচিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের পরিমিত ও কৃতজ্ঞতাপূর্ণ প্রকাশকে ইসলাম ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।আল্লাহ নিয়ামতের নিদর্শন দেখতে ভালোবাসেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, তার বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে? সুতরাং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিজেকে চরম অভাবগ্রস্ত বা অগোছালো উপস্থাপন করা ইসলামের শিক্ষা নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ছিলেন এবং সাহাবিদেরও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহিত করতেন। একদা অগোছালো ও অপরিচ্ছন্ন পোশাক পরা ব্যক্তিদের দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, আধ্যাত্মিকতা ও সৌন্দর্যবোধ ইসলামের দৃষ্টিতে একে অপরের পরিপূরক।

ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ জীবন শেখায়।বর্তমান সমাজে দুই ধরনের চরমপন্থা লক্ষ্য করা যায়। একদল মনে করে দ্বীনদার হতে হলে মলিন থাকতে হবে, আবার অনেকে বিলাসিতা ও অহংকারে ডুবে যায়। ইসলাম এই দুইয়ের মাঝখানে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে বলেছে।অহংকার হলো মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা। আল্লাহর নিয়ামত ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিনয় ও কৃতজ্ঞতা বজায় রাখাই আসল ইবাদত। কারণ সুন্দর পোশাক বা জীবনযাপন নিজে কোনো অহংকার নয়, বরং এটি আল্লাহর শোকর আদায়ের একটি মাধ্যম।

ইসলাম দারিদ্র্যকে মহিমান্বিত করেনি।একজন মুসলিমের পোশাক, ব্যবহার ও রুচিতে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠা উচিত। যখন কোনো মানুষ হালাল উপায়ে পরিচ্ছন্ন জীবন নিশ্চিত করে, তখন সে আসলে আল্লাহরই বিধান বাস্তবায়ন করে।তাই অপচয় নয়, আবার কৃত্রিম দারিদ্র্যও নয়। বরং বিনয় ও শালীনতার সঙ্গে আল্লাহর নিয়ামতের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারই একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয়।