জুলাই ১৫, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
ফুটবল মাঠে হ্যান্ডবল মানেই যে সরাসরি ফাউল নয়, তা আধুনিক নিয়মের সুক্ষ্ম প্রয়োগে আরেকবার প্রমাণিত হলো। ডালাসে ফ্রান্স বনাম স্পেনের মধ্যকার সেমিফাইনাল ম্যাচে লামিনে ইয়ামালের হাতে বল লাগার ঘটনাটি মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তের পর ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ দর্শকদের কাছে দৃশ্যটি বিভ্রান্তিকর মনে হলেও ফুটবলের ১২ নম্বর আইন অনুযায়ী রেফারির পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ নিখুঁত।
ম্যাচ চলাকালীন ফরাসি পেনাল্টি বক্সে বল দখলের লড়াইয়ে বলটি প্রথমে ইয়ামালের হাতে স্পর্শ করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে তাকে ফাউল করেন। রেফারি ইভান বার্টন মুহূর্তের মধ্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে বিষয়টি যাচাই করা হলেও মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়। স্পট কিক থেকে গোল করে মিকেল ওইয়ারসাবাল স্পেনকে লিড এনে দেন।
ফুটবলের আধুনিক আইনে হ্যান্ডবল যাচাইয়ের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়ের হাতের অবস্থান এবং তার উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ইয়ামালের ক্ষেত্রে দুটি নিয়মই কার্যকর হয়েছে। প্রথমত, তার হাতটি শরীরের সাথে স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। বলটি এসে তার হাতে লেগেছে, তিনি হাত বাড়িয়ে বল আটকানোর চেষ্টা করেননি। দ্বিতীয়ত, আক্রমণের শুরুতে যেকোনো হ্যান্ডবলই ফাউল ধরা হতো আগে। কিন্তু বর্তমান নিয়মে অনিচ্ছাকৃত হ্যান্ডবল তখনই ফাউল গণ্য হয়, যখন খেলোয়াড় সরাসরি হাত দিয়ে গোল করেন কিংবা বল লাগার পরপরই গোল করে বসেন। ইয়ামাল হাত দিয়ে গোল করেননি বা বল নিয়ন্ত্রণ করে শটও নেননি।
রেফারিকে দুটি ঘটনার ধারাবাহিকতা বিবেচনা করতে হয়েছে। ইয়ামালের হাতে বল লাগার ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ও স্বাভাবিক ছিল, তাই তা ফাউল নয়। ওই ঘটনায় খেলা সচল থাকায় ঠিক পরপরই লুকাস দিনিয়ের ফাউলটি পেনাল্টিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। এই নিখুঁত জয়ের সুবাদে স্পেন সেমিফাইনাল জয় করে ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছে। দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরো ব্যবধান দুই শূন্য করেন। মাঠের এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক ফুটবল শুধু গায়ের জোরে নয়, বরং নিয়মের সুক্ষ্ম মারপ্যাঁচেও পরিচালিত হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন