রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্পিন বিশ্বরেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম

স্পিন বিশ্বরেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ

ছবি - সংগৃহীত

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রায়শই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ এবং বিচিত্র সব রেকর্ডের সাক্ষী হয়, তবে মঙ্গলবার যা ঘটল, তা ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেই এক অনন্য ঘটনা। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেটি কেবল একটি ম্যাচ ছিল না, এটি পরিণত হয়েছিল স্পিন বোলিংয়ের এক মহাকাব্যিক প্রদর্শনীতে।

এই ম্যাচে দুই দলের স্পিনাররা মিলে এমন এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন, যা নিকট অতীতে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তবে রেকর্ডের এই দিনেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই দলের মূল ইনিংস টাই হওয়ার পর সুপার ওভারে গড়ানো ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি টাইগাররা, যা বিশ্বরেকর্ড গড়ার আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ওভার স্পিন বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড এখন এই ম্যাচের দখলে।

মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, মিরপুরের চিরচেনা মন্থর উইকেটে টস জিতেই দুই অধিনায়ক হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন, এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে স্পিনারদের। কিন্তু সেই স্পিন-যুদ্ধ যে এমন चरम পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা হয়তো কেউই কল্পনা করেননি। ম্যাচটি সুপার ওভারসহ মোট ১০২ ওভার পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এর মধ্যে দুই দলের স্পিনাররা মিলেই বল করেছেন মোট ৯৩ ওভার। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এত বেশি ওভার স্পিন বোলিং দেখেনি বিশ্ব।

এই রেকর্ডের মাধ্যমে ভেঙে গেছে ২০১৯ সালে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের রেকর্ডটি। সেই ম্যাচে দুই দলের স্পিনাররা মিলে মোট ৭৮.২ ওভার বোলিং করেছিলেন। মিরপুরের এই ম্যাচ সেই রেকর্ডকে বহুদূরে ছাড়িয়ে গেল। এই তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে ১৯৯৮ সালে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচ, যেখানে স্পিনাররা ৭৬ ওভার বল করেছিলেন।

ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়, মিরপুরের বাইশ গজ এদিন পেসারদের জন্য কতটা নির্দয় ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং ইনিংসের চিত্রটি ছিল অবিশ্বাস্য। সফরকারী দল তাদের ইনিংসে মোট পাঁচজন বোলার ব্যবহার করে এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পাঁচজনই ছিলেন স্পিনার। অর্থাৎ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের ৫০ ওভারের বোলিং কোটা পূর্ণ করেছে একজনও পেসার ব্যবহার না করেই।

আকিল হোসেন, গুদাকেশ মোতি এবং তাদের সঙ্গীরা মিলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর শুরু থেকেই যে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন, তা থেকে টাইগাররা পুরো ইনিংসে আর বের হতে পারেনি। মিরপুরের মন্থর উইকেটে বল কেবল ঘুরছিল না, কখনো কখনো থেমেও আসছিল, যা ব্যাটারদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। এই স্পিন বিষেই বাংলাদেশের ইনিংস একটি মাঝারি মানের স্কোরে আটকে যায়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশও একই কৌশল অবলম্বন করে। টাইগার অধিনায়ক পেস আক্রমণের বদলে স্পিন দিয়েই ইনিংসের সূচনা করেন এবং প্রায় পুরো ইনিংসজুড়েই স্পিনারদের ওপর আস্থা রাখেন। বাংলাদেশের হয়ে স্পিনাররা মোট ৪২ ওভার বল করেন। উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন এবং তাইজুল ইসলামরাও ক্যারিবীয় ব্যাটারদের চাপে রাখেন।

দুই দলের স্পিনারদের এই দাপটে ম্যাচটি পরিণত হয় একটি লো-স্কোরিং থ্রিলারে। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র পেসার হিসেবে বল করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি তার ৮ ওভারের কোটা পূর্ণ করেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে মূল ম্যাচের ১০০ ওভারে স্পিনাররা বল করেন মোট ৯২ ওভার। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত টাই হলে খেলা গড়ায় সুপার ওভারে।

ম্যাচের মূল লড়াই যেখানে স্পিন দিয়ে হয়েছে, সেখানে সুপার ওভারে এসে বাংলাদেশ ভরসা রাখে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের ওপর। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের আস্থার প্রতীক স্পিনার আকিল হোসেনের হাতেই বল তুলে দেয়। সুপার ওভারের এই এক ওভারে আকিল হোসেনের করা স্পিনই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা পুরো ম্যাচে মোট ৫১ ওভার বল করেন (৫০ ওভার মূল ইনিংসে এবং ১ ওভার সুপার ওভারে)।

অন্যদিকে বাংলাদেশের স্পিনাররা করেন ৪২ ওভার। সব মিলিয়ে ৯৩ ওভার স্পিন। এটি এমন এক রেকর্ড, যা মিরপুরের উইকেটের স্পিন-সহায়ক চরিত্রকে বিশ্বমঞ্চে আরও একবার প্রতিষ্ঠিত করল। তবে দিনশেষে বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য আক্ষেপ হয়ে রইল, এমন একটি বিশ্বরেকর্ডের দিনেও দল হিসেবে জয়ী হওয়া হলো না।