সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১০:২৪ এএম
বাংলা আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়েই দেশের সর্বউত্তরের সীমান্ত উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় প্রকৃতিতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা। ভোরের ঘন কুয়াশার সাদা চাদর আর হালকা ঠান্ডা বাতাসে বদলে যেতে শুরু করেছে এই অঞ্চলের সামগ্রিক আবহ। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই তেঁতুলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার সাদা আস্তরণে। গ্রামীণ মেঠোপথ, গাছপালা, উঠতি ফসলের মাঠ থেকে শুরু করে সমতলের সবুজ চা-বাগান—সবকিছুতেই যেন জমছে কুয়াশার শীতল পরশ।
দিনের শুরুতে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়া মানুষ কিংবা শরীরচর্চায় বের হওয়া পথচারীদের চোখে পড়ছে এই দৃশ্য। অনেকেই ভোরের এমন স্নিগ্ধ সৌন্দর্য দেখতে বাইরে বের হচ্ছেন। কুয়াশার তীব্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে সড়কে কয়েক গজ দূরের বস্তুও স্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। ফলে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে চলাচলকারী ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যাচ্ছে। শীতের আমেজ বুঝতে পেরে স্থানীয় অনেককেই ভোরে গায়ে হালকা গরম কাপড় জড়িয়ে কাজ শুরু করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম জানান, ভোরে ঘন কুয়াশার কারণে সামনের পথ দেখা যাচ্ছিল না এবং হিমেল বাতাসের প্রভাবে বাইরে বের হলে বেশ শীতের অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। কৃষিকাজেও এর মৃদু প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, কুয়াশা ও আবছা আলোর কারণে সকালে জমিতে নেমে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়লে কুয়াশা কেটে গিয়ে চারপাশের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, শরৎকালে মৌসুমি বায়ুর প্রবাহের হ্রাস-বৃদ্ধি এবং আকাশে দীর্ঘ সময় জমে থাকা মেঘ আকস্মিকভাবে সরে যাওয়ার ফলে স্থানীয় তাপমাত্রায় এ ধরনের দ্রুত পরিবর্তন ঘটে থাকে। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে ভোর ও সন্ধ্যায় তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ছয়টায় সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েক দিন ধরেই এই সীমান্ত জনপদের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে অবস্থান করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন