সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
বাড়ির আঙিনায় বিদেশি উন্নত জাতের আনার ও বেদানা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা মো. সোহেল
। মাত্র দেড় বছর বয়সী ৫০টি গাছে একেকটি ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ফল ফলিয়ে তিনি বাণিজ্যিক বাগান ও ছাদবাগানের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন ।বর্তমানে বাজারে এসব আনার প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬৫০ টাকায় । কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল জানান, তার সংগ্রহে আনারের মোট ৩০টি জাত থাকলেও দেশীয় আবহাওয়ায় অভিযোজন ক্ষমতা ও ফলন যাচাই করতে তিনি ১৮টি জাত নিয়ে পরীক্ষামূলক পাইলট প্রকল্প শুরু করেন । এর মধ্যে আট থেকে দশটি জাতের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মিষ্টির মাত্রা এবং আকার বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক । বিশেষ করে ফুলে রক্তা, জিএম-টু, থাই আনার, মৃদুলা, পেরু পিঙ্ক, অস্ট্রেলিয়ান বিগ, মেক্সিকান, রোসভায়া এবং সম্পূর্ণ সাদা রঙের আভা সুইট জাতগুলোর উৎপাদন স্থানীয় জলবায়ুর সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে । এর মধ্যে আভা সুইটের ভেতরে কাচের দানা বা মুক্তার মতো সাদা দানায় ভরপুর রস থাকে এবং এর বীজ এতটাই নরম যে চিবিয়ে সহজেই খাওয়া যায় । চারা রোপণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ফুল আসতে শুরু করে এবং আট মাস বয়স থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ফল সংগ্রহ করা যায় ।
এটি মূলত একটি বারোমাসি জাত, যেখানে একই গাছে পরিপক্ব ফলের পাশাপাশি মাঝারি আকারের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ফল এবং নতুন ফুল ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকে । বর্ষাকালে রঙের উজ্জ্বলতা তুলনামূলকভাবে কিছুটা হালকা থাকলেও শীত মৌসুমে ফলগুলোতে গাঢ় খয়েরি ও লালচে আভা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে । তিনি জানান, দেশের যেকোনো উর্বর মাটিতে সঠিক উপায়ে জমি প্রস্তুত করে এই জাতগুলোর চাষ সম্প্রসারণ করা সম্ভব । বাণিজ্যিক বাগান তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিটি গাছ থেকে অন্য গাছের দূরত্ব ১২ ফুট রাখা সবচেয়ে আদর্শ, তবে জমির স্বল্পতা থাকলে ন্যূনতম ১০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন । বর্ষা মৌসুমে ছত্রাকের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচবার নির্ধারিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয় এবং পাতা কোঁকড়ানো রোধে উপযুক্ত বালাইনাশক ব্যবহার করা আবশ্যক ।
খামারে গুটি কলম ও গ্রাফটিং বা সায়ন জোড়া লাগানো পদ্ধতির মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে । এক নারী উদ্যোক্তা জানান, বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা কিনে প্রতারিত হয়ে ১৫০০ টাকা নষ্ট করার পর সোহেলের খামার থেকে সংগৃহীত নয়টি জাতের চারা রোপণ করে গাছপ্রতি প্রায় ১০ কেজি পর্যন্ত মিষ্টি ও রসালো ফল পেয়েছেন । সঠিক জাত নির্বাচন নিশ্চিত করে বাগান গড়লে দেশের আমদানিনির্ভর আনারের চাহিদা পূরণ করে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন