সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি অবিলম্বে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাহার করে জ্বালানি খাতে টেকসই ও জনবান্ধব কার্যকর নীতি গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছে। গতকাল রোববার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জ্বালানি তেলের এই নতুন মূল্যতালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন দর রোববার দিবাগত রাত ১২টা অর্থাৎ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রথম প্রহর থেকেই দেশব্যাপী কার্যকর করা হয়েছে। আজ এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জানান, এর আগেও দেশের বাজারে কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।
অথচ এর আগে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে জ্বালানির মূল্য বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাধারণ জনগণকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়। এমনকি গত মার্চেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছিলেন যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো ধরনের পরিকল্পনা সরকারের নেই। দলটির এই দুই শীর্ষ নেতা উল্লেখ করেন, জনগণের বাস্তব আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে কোনো রকম সামঞ্জস্য না রেখে হঠাৎ এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।
এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতির মারাত্মক বোঝা চেপে বসবে। শেষ পর্যন্ত এই অস্বাভাবিক বর্ধিত খরচের পুরো চাপ দেশের সাধারণ জনগণকেই বহন করতে হবে। নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচ এবং সামগ্রিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের উচিত ছিল এর সার্বিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিকর প্রভাবের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাময়িক অস্থিরতার পুরো দায় সাধারণ জনগণের ঘাড়ে না চাপিয়ে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতের অপচয়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় কমাতে সরকারের কার্যকর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, জ্বালানি খাতে পূর্ণ স্বচ্ছতা, সার্বিক জবাবদিহি ও দক্ষ আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে দেশের কৃষক, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সীমিত ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ চাপ কমাতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও তা দ্রুত প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক দাবি জানান। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে জনগণের ওপর থেকে মূল্যস্ফীতির অসহনীয় চাপ কমাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনশীল রাখা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই একটি নির্বাচিত সরকারের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর একের পর এক পণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কৃত্রিম বোঝা চাপিয়ে কখনোই কোনো দেশের জন্য টেকসই অর্থনৈতিক সমাধান তৈরি করা সম্ভব নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন