মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
সমুদ্রের নিচে বিদ্যুৎ

পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ: ১০ মিটার গভীরে সফল চীন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১২:২০ পিএম

পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ: ১০ মিটার গভীরে সফল চীন

সমুদ্রের তলদেশে ১০ মিটার বা প্রায় ৩৩ ফুট গভীরতায় পেরোভস্কাইটভিত্তিক সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। গবেষক দলের দাবি, সমুদ্রের তলদেশে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরের গভীরে। চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বিশেষভাবে তৈরি ১১৫ বর্গ সেন্টিমিটার আয়তনের এই প্যানেলটি একটি চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় রোবটের সহায়তায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পর্যায়ক্রমে দুই, ছয় ও ১০ মিটার গভীরে নিয়ে পরীক্ষা চালান। এই পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, দুই মিটার গভীরতায় প্যানেলটি থেকে ১ হাজার ৪১৬ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে গভীরতা বাড়িয়ে ছয় মিটারে নেওয়া হলে উৎপাদন হয় ৭৫২ মিলিওয়াট-ঘণ্টা এবং ১০ মিটার গভীরতায় পৌঁছালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২৪ মিলিওয়াট-ঘণ্টা। এই উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি একটি এলইডি বাতিও জ্বালানো সম্ভব হয়।

পানির গভীরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে সূর্যালোকের লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সিংহভাগই জলরাশিতে শোষিত হয়ে মিলিয়ে যায়। ফলে পানির পাঁচ থেকে দশ মিটার গভীরে কেবল নীল ও সবুজ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এই প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে চীনা বিজ্ঞানীরা প্যানেলটি এমনভাবে প্রস্তুত করেছেন, যাতে এটি ৪০০ থেকে ৬০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো সবচেয়ে কার্যকরভাবে গ্রহণ করতে পারে। প্যানেলটির কাঠামোগত ভিত্তি তৈরিতে সীসা-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট নামের বিশেষ অর্ধপরিবাহী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্যানেলের কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে এতে পলিহেক্সামেথিলিন গুয়ানিডিন হাইড্রোক্লোরাইড নামের একটি রাসায়নিক পলিমার স্তর যুক্ত করেন প্রকৌশলীরা। এই উদ্ভাবনী পলিমারের উপস্থিতির কারণে প্যানেলের ইলেকট্রন ধারণ ও পরিবহন সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।

গবেষক দলের প্রধান ওয়েন-হুয়া ঝাং জানান, পানির নিচে সৌরশক্তি নিয়ে অতীতের বেশিরভাগ গবেষণা কেবল দুই মিটার বা তার কম গভীরতার অগভীর জলাশয়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এবারই প্রথম প্রায় ১০ মিটার গভীর প্রতিকূল সামুদ্রিক পরিবেশে কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরীক্ষা সম্পন্ন করা হলো।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‍‍`জুল‍‍`-এ গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই নতুন কাঠামোর সোলার প্যানেলগুলো টানা প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর ও সচল থাকতে পারে। গবেষকদের বিশ্বাস, সমুদ্রের নিচে স্থাপিত স্থায়ী সংবেদনশীল সেন্সর, শনাক্তকারী যন্ত্রপাতি, সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং সমুদ্রাভ্যন্তরীণ যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহে এই উদ্ভাবন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।