অক্টোবর ৩, ২০২৫, ০৮:৫৩ পিএম
দিনাজপুরের কৃষকরা এখন আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ও ফসল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও, এবার কৃষকরা মৌসুমের শুরুতেই, অর্থাৎ আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়েই, সবজি বাজারে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর মূল কারণ, মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির দাম ও চাহিদা দুটোই বেশি থাকে, ফলে কৃষকেরা অধিক লাভের আশা করছেন।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দিনাজপুর সদর উপজেলাকে জেলার শস্যভাণ্ডার বলা হয় এবং এ বছর জেলার সবগুলো উপজেলাতেই কৃষকেরা আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম তাঁর ৪৫ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁঠালি বেগুন ও টমেটো চাষ করেছেন।
বর্ষার শেষ দিক হওয়ায় অসময়ে বৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি জমিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন।তিনি জানান, বৃষ্টির পানিতে যাতে সবজির কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য জমিতে ৩ ফুট পর পর ড্রেন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি সহজেই নেমে যাচ্ছে এবং সবজির সার্বক্ষণিক পরিচর্যার কাজ চলছে। শহিদুলের আশা, তিনি আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়েই সবজি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন এবং ভালো দাম পাবেন।
দানিহারি গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছর ধরে এই পদ্ধতিতে চাষ করে তাঁরা সফল হয়েছেন। "আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করায় আমাদের পরিশ্রম ও খরচ দুইই কমেছে। কিন্তু লাভ বেশি," বলেন তিনি।জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, যেমন শিব নগর, আলাদীপুর ও দৌলতপুরসহ অনেক এলাকায় আগাম শীতকালীন সবজির চাষ শুরু হয়েছে। এসব জমিতে এখন শিম, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, করলা, লাউ ও লালশাকসহ বিভিন্ন সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজ চলছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের কৃষক হারুন মিয়া জানান, তিনি ৩০ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে তিনি বাজারে ফুলকপি তুলতে পারবেন।গত বছর এই জমিতেই এক লাখ ৩০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছিলাম। এবার ভালো কিছু আশা করছি," বলেন কৃষক হারুন। তিনি কপির পাশাপাশি শিম ও শসাও চাষ করেছেন।
সুজাপুর গ্রামের চাষি মো. কেরামত আলী বলেন, যেকোনো সবজি মৌসুমের শুরুতে বাজারে ওঠাতে পারলে দাম একটু বেশি পাওয়া যায়। তিনি জানান, এরই মধ্যে আগাম জাতের শিম, মুলা, লালশাক, পুঁইশাক, করলা, পালংশাক ও টমেটো বাজারে উঠছে এবং ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুব খুশী।ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর রহমান জানান
কৃষি বিভাগ আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও রোগবালাই দমনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে।দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন নিশ্চিত করেন, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় ২৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে আগাম জাতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা হলো ৭ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে।




দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন