রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মিশ্র ফল বাগান পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ১১:৫৫ পিএম

মিশ্র ফল বাগান পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার

ছবি - সংগৃহীত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় সম্ভাবনাময় মিশ্র ফল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণে পরিদর্শন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-এর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার, কৃষিবিদ মোঃ শাহ্ আলম মিয়া উপজেলার দুটি উল্লেখযোগ্য মিশ্র ফলের বাগান পরিদর্শন করেন।

ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত লালমাটি এলাকার এই বাগানগুলোতে মূলত মাল্টা, থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় কাটিমন আম এবং পেয়ারার মতো উচ্চমূল্যের ফলের চাষ করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে তিনি বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাগানের সার্বিক পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন। এই পরিদর্শন স্থানীয় ফল চাষিদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ শাহ্ আলম মিয়া এদিন লালমাটি এলাকার দুইজন সফল ফল চাষি, মোস্তফা কামাল এবং সাহাবুল ইসলামের বাগান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, কৃষক মোস্তফা কামাল চলতি বছরে তার ৬৬ শতক জমিতে মাল্টা এবং বারোমাসি কাটিমন আমের সমন্বিত চাষ করেছেন। অন্যদিকে, কৃষক সাহাবুল ইসলাম তুলনামূলক বৃহৎ পরিসরে প্রায় ৩ একর জমিতে মাল্টা, কাটিমন আম ও পেয়ারাসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ফলের একটি মিশ্র বাগান গড়ে তুলেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি এ ধরনের মিশ্র ফলের বাগান তৈরির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। মোঃ শাহ্ আলম মিয়া বাগান দুটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা, গাছের সতেজতা এবং ফলন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশিক্ষণ অফিসারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুজ্জামান, স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ রেবেকা সুলতানা এবং এলাকার আরেকজন অগ্রগামী কমলা চাষী হিসেবে পরিচিত বদরুল আলম বুলুসহ অন্যান্য কৃষি উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

এই সম্মিলিত পরিদর্শনকালে কৃষিবিদ মোঃ শাহ্ আলম মিয়া উপস্থিত চাষিদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি মিশ্র ফল বাগানের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে মাল্টা, আম ও পেয়ারা গাছে সাধারণত যেসব রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা যায়, সেগুলোর আগাম লক্ষণ চেনা এবং সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে তা প্রতিহত করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

তিনি উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জাত নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বাগানের সঠিক পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহায়তার আশ্বাস দেন। এর মধ্যে রয়েছে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগের সঠিক পদ্ধতি, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং গাছের অঙ্গ ছাঁটাই বা প্রুনিংয়ের মতো বিষয়গুলো। তিনি এই অঞ্চলে মাল্টা, কাটিমন আম ও পেয়ারা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে চাষিদের আরও আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে চাষাবাদে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুজ্জামান জানান, ঘোড়াঘাট উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে যেন তারা গতানুগতিক ফসলের পাশাপাশি এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফল চাষে এগিয়ে আসেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে ফলের চাহিদাও পূরণ হবে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসারের এই পরিদর্শন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কৃষক উভয়কেই আরও উৎসাহিত করবে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ রেবেকা সুলতানা জানান, তিনি নিয়মিত এই বাগানগুলোসহ তার ব্লকের অন্যান্য কৃষি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আজকের পরিদর্শনের ফলে কৃষকরা রোগবালাই দমন ও সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বাগান মালিক মোস্তফা কামাল ও সাহাবুল ইসলাম কৃষি কর্মকর্তাদের এই পরিদর্শনে অত্যন্ত আনন্দিত এবং তারা আশা প্রকাশ করেন যে, কৃষি বিভাগের এই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তারা তাদের বাগানকে আরও সম্প্রসারিত করতে পারবেন এবং এলাকার অন্যান্য কৃষকদেরও মিশ্র ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হবেন।