রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এক আসনে মনোনয়ন কিনলেন আপন ২ ভাই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ১০:৩৯ এএম

এক আসনে মনোনয়ন কিনলেন আপন ২ ভাই

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর ও সিটির একাংশ) আসনকে কেন্দ্র করে এক চমকপ্রদ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কালিয়াকৈর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বলিয়াদি জমিদার বাড়ির আপন দুই ভাই একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

তারা হলেন—গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী এবং তার বড় ভাই চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী।

তারা দুজনেই বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে। দুই ভাইয়ের এই মুখোমুখি অবস্থান এখন পুরো গাজীপুরের টক অব দ্য টাউন।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর-১ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কালিয়াকৈর পৌরসভার বারবার নির্বাচিত মেয়র মজিবুর রহমানকে। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সোমবার সকালে জেলা রিটার্নিং কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ছোট ভাই চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। অন্যদিকে, তার বড় ভাই চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী গত রবিবারই একই আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে চমক দেখান। ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশ লেবার পার্টি থেকে ‘আনারস’ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

]

ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার দাবিতে দুই ভাই-ই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বড় ভাই ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, “এলাকায় আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে, তাই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।” অন্যদিকে ছোট ভাই ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এক সময়ে বিএনপির শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে একই পরিবারের দুই সদস্যের প্রার্থী হওয়া ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য যে, কেবল গাজীপুর-১ নয়, জেলার অন্যান্য আসনগুলোতেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। গাজীপুর-২ আসনে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মনজুরুল করিম এবং শ্রমিক দলের সালাহ উদ্দিন সরকারসহ একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত জেলাজুড়ে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। জমিদার বাড়ির দুই ভাইয়ের এই রাজনৈতিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্স পর্যন্ত গড়ায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।