সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

মেডিকেলে চান্স পেলেন পঞ্চগড় দেবীগঞ্জের যমজ বোন

আবু সালেহ মো. রায়হান

ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৯:৪৯ এএম

মেডিকেলে চান্স পেলেন পঞ্চগড় দেবীগঞ্জের যমজ বোন

ছবি-দিনাজপুর টিভি

অদম্য মেধা আর নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে অসম্ভবকে জয় করলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের বিনয়পুর গ্রামের দুই যমজ বোন পূজা রানী রায় ও পলি রানী রায়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে কুষ্টিয়া ও নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তারা।

বিনয়পুর গ্রামের কৃষক ভূপেন্দ্র নাথ রায় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্বান্তনা রানী মহন্তের এই দুই মেধাবী সন্তান শুরু থেকেই মেধার পরিচয় দিয়েছেন।

পূজা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে এবং পলি নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাদের এই সাফল্যে পুরো গ্রামজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা।

শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে পূজা ও পলি ছিলেন অদম্য। ২০১৭ সালে পিইসি-তে বৃত্তি থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন তারা। যমজ বোনের এই অনন্য সাফল্যের নেপথ্যে বাবা-মায়ের নিরলস ত্যাগ ও পরিশ্রমের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন তারা।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পূজা রানী রায় জানান, তিনি একজন কার্ডিওলজিস্ট হয়ে হৃদরোগীদের সেবা করতে চান। অন্যদিকে, পলি রানী রায়ের স্বপ্ন একজন গাইনোকলজিস্ট হয়ে দেশের মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা।

নিজেদের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করা মা স্বান্তনা রানী মহন্ত অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “আমার দুই মেয়ে আজ ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, মা হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওনা আর কিছু হতে পারে না।” বিনয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ ফরিদ জানান, পূজা ও পলি এলাকার গর্ব, তারা আগামী দিনে দেশের সেবায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।