রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেতের তৈরী কুটির শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেতের তৈরী কুটির শিল্প

ছবি-দিনাজপুর টিভি

আধুনিকতার ছোঁয়া আর প্লাস্টিক পণ্যের বাজার দখলের কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প। বাপ-দাদার এই আদি পেশা আঁকড়ে থাকা প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার এখন চরম অভাব আর দুশ্চিন্তায় দিন অতিবাহিত করছেন।

এক সময় রাণীশংকৈলের প্রতিটি গ্রামে বাঁশ মালিদের তৈরি কুলা, ডালা, টুকরি, হাতপাখা ও ঝুড়ির ব্যাপক কদর ছিল। গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে শহরের বনেদি পরিবারেও এসব পণ্যের চাহিদা ছিল চোখে পড়ার মতো।

বর্তমানে স্বল্পমূল্যের প্লাস্টিক ও সিলভারের সামগ্রী বাজারের দখল নেওয়ায় এই মৃৎশিল্পের কারিগররা এখন গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের কারিগর অর্জুন দাস ও রচনা রাণী বলেন, আগে একটি বাঁশ ১০০-১৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে হচ্ছে ৩০০ টাকায়। কিন্তু তৈরির পর সেই অনুপাতে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। পরিশ্রমের তুলনায় লাভ না হওয়ায় আমাদের পরিবারের পুরুষরা এখন রাজমিস্ত্রি বা ভ্যান চালনার মতো পেশায় চলে যাচ্ছে।" অনেক পরিবার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।পৌর শহরের খাস জমিতে বসবাসকারী মিনতি রাণী জানান, সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে যেসব পণ্য তৈরি করেন, তা হাটে নিয়ে গেলে ক্রেতা পাওয়া যায় না।

অথচ এই কাজ ছাড়া অন্য কোনো আয়ের পথও তাদের জানা নেই। তাঁদের দাবি, সরকারিভাবে সুদমুক্ত ঋণ এবং কারিগরি সহায়তা পেলে এই প্রাচীন শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো।বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও-এর 'থ্রাইভ' প্রকল্পের কর্মকর্তা খায়রুল আলম জানান, রাণীশংকৈলে প্রায় ২৫০টি দলিত পরিবার এই পেশার সঙ্গে জড়িত। সংস্থাটি তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করলেও ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান জরুরি। তা না হলে অচিরেই এই জনপদ থেকে হারিয়ে যাবে বাঁশ ও বেতের নিপুণ কারুকার্য।