মোস্তাফিজুর রহমান
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:০৮ এএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
এক সময়ের প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র নদ আজ যেন তার নিজস্ব সত্তা হারাতে বসেছে। নাব্য সংকটে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নদের বুকে জেগে উঠেছে মাইলের পর মাইল ধুধু বালুচর। নৌযান চলাচল থমকে যাওয়ায় থমকে গেছে চরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবনযাত্রা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এখন ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ তপ্ত বালু মাড়িয়ে কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
সরেজমিনে ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায়, যেখানে একসময় ঢেউয়ের গর্জন শোনা যেত, সেখানে এখন মরুভূমির মতো ধুধু প্রান্তর। নদীপথ অচল হয়ে পড়ায় চরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, ভুট্টা ও সবজি পরিবহনে কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীরা।
চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীদের কাঁধে করে বা ঘোড়ার গাড়িতে বালুচর পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফুলছড়ি চরের বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, আগে নৌকায় আধা ঘণ্টায় নদী পার হতাম, এখন অর্ধেক বছর হাঁটা লাগে। অসুস্থ মানুষ নিয়ে চলাফেরা করা নরক যন্ত্রণার মতো।পরিবেশবিদরা বলছেন, নদীর এই অবস্থা জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মাছের অভাবে জেলে পরিবারগুলো পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, উজানে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং বর্ষায় আসা অতিরিক্ত পলি জমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। মাঝে মধ্যে ড্রেজিং করা হলেও নদের বিশাল আয়তনের তুলনায় তা অত্যন্ত সামান্য।উল্লেখ্য, ব্রহ্মপুত্রের ১৬৫টি চরের মানুষের পাশাপাশি বালাশী-বাহাদুরাবাদ ঘাট দিয়ে অন্তত ১০ জেলার মানুষ যাতায়াত করে। দ্রুত কার্যকর খনন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে এই নদ শুধু মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।