রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তদের আগুন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তদের আগুন

ক্ষতিগ্রস্ত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে নির্মিত জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই নাশকতাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যা স্থানীয় প্রশাসন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের নজরে আসে। 

মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শরীয়তপুরের ১৪ জন শহীদের স্মরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিশেষ স্থাপনাটি নির্মাণ করেছিল।ঘটনার বিবরণে জানা গেছে যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের শরীয়তপুর জেলা আহ্বায়ক মহসিন মাদবর গত শুক্রবার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। 

ভিডিওতে দেখা যায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি কংক্রিট ও লোহার তৈরি ওই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন এবং অন্য একজন তা মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন। 

ওই ছাত্রলীগ নেতা তার পোস্টে এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির শরীয়তপুর জেলা আহ্বায়ক কাউসার মৃধা বলেন যে স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল-নাজির এই হামলাকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি মুছে ফেলার হীন উদ্দেশ্যেই এই নাশকতা চালানো হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে তারা ভিডিওটির বিষয়ে অবগত হয়েছেন। তবে এটি ঠিক কোন সময়ের ঘটনা তা নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকায় পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তিনি আরও জানান যে পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। শহীদদের নাম খোদাই করা এই স্মৃতিস্তম্ভটিতে এমন ন্যাক্কারজনক হামলাকে স্থানীয়রা জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন।