এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় বিদ্যালয়টির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মূল্যবান শিক্ষা উপকরণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যালয়ের অন্তত ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়।
এলাকাটি তুলনামূলক জনমানবহীন হওয়ায় শুরুতে কেউ টের পায়নি। তবে মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা বেড়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান।
কিন্তু আগুনের প্রকোপ এতটাই বেশি ছিল যে সাধারণ প্রচেষ্টায় তা নেভানো সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।রামগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বিষয়ান্তর বড়ুয়া জানান, ফায়ার সার্ভিসের জরুরি হটলাইন ১০২ থেকে সংবাদ পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দীর্ঘ এক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও তার আগেই বিদ্যালয়ের অন্তত ছয়টি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং সুনির্দিষ্ট ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানান, এই অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ কয়েকটি ক্লাসরুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে স্কুলের প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের কম্পিউটার এবং শিক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ভবনটি মেরামত করে পুনরায় পাঠদান কার্যক্রম শুরু করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত হলো, তা এখনও রহস্যের আবর্তে রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে খাগড়াছড়ির তৎকালীন জেলা প্রশাসক এবং রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিশেষ উদ্যোগে প্রত্যন্ত এই পাতাছড়া ইউনিয়নে কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি এলাকার শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছালেও আগুনের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবরের পর উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা এই ঘটনাকে বিদ্যালয়ের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে সামনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন