বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় রাতের আঁধারে একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে সোমবার দিবাগত রাতে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীকে গলা কেটে এবং তাদের দুই শিশু সন্তানকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির বারান্দায় রক্ত দেখতে পাওয়ার পর এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানাজানি হয়।

 নিয়ামতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।নিহতরা হলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), তাদের ১০ বছর বয়সী ছেলে পারভেজ হোসেন এবং মাত্র ৩ বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়া খাতুন। 

তাদের মধ্যে পারভেজ স্থানীয় বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে এখন শোক আর আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

ঘটনার বিবরণে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো ভোরে ঘুম থেকে উঠে তিনি ছেলের ঘরের দরজার সামনে প্রচুর রক্ত জমাট বেঁধে থাকতে দেখেন। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে খাটের ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় ধরণের ডাকাতি বা লুটপাটের উদ্দেশ্য ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। সোমবার তিনি মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে রাত ৮টার দিকে বাসায় ফেরেন। তার কাছে গরু বিক্রির নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা সেই টাকা এবং বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কার লুটের জন্য এই হামলা চালায়। এমনকি হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনের কানের রিংও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে খুনিরা। লুণ্ঠিত মালামালের সঠিক পরিমাণ নিরূপণে পুলিশ কাজ করছে।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হলেও শিশুদের মাথায় ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বাড়িতে ডাকাতি করার সময় পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়েই পরিবারের সব সদস্যকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও ডিবি সদস্যদের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

একই পরিবারের চারজনকে এভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, খুব দ্রুতই রহস্য উদ্ঘাটন করে খুনিদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পৌঁছানোর কথা রয়েছে।