রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এক রাতে নারী-শিশুসহ সাতজনের রক্তাক্ত ম‍‍`রদেহ উদ্ধার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

এক রাতে নারী-শিশুসহ সাতজনের রক্তাক্ত ম‍‍`রদেহ উদ্ধার

পৃথক ঘটনায় ৭ মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁর নিয়ামতপুর এবং কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি নৃশংস ঘটনায় শিশু ও নারীসহ মোট সাতজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সংঘটিত এসব পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নওগাঁয় একই পরিবারের চারজন এবং টেকনাফের গহিন পাহাড় থেকে তিন যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পৃথক এই দুই ঘটনার ধরণ ও উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও খুনিদের নির্মমতা সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে সোমবার দিবাগত রাতে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন গরু ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ১০ বছরের ছেলে পারভেজ হোসেন এবং মাত্র তিন বছর বয়সী শিশুসন্তান সাদিয়া খাতুন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে সোমবার রাতে বাড়িতে ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই টাকা এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে বাড়িতে হানা দেয়। 

খুনিরা দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা করার পর পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাঁদের দুই অবুঝ সন্তানকে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। মঙ্গলবার ভোরে হাবিবুরের বাবা দরজার সামনে রক্ত দেখতে পেয়ে ভেতরে ঢুকে চারজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। খুনিরা পপি খাতুনের কানের দুল পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এই ঘটনাটি পরিকল্পিত ডাকাতি কি না, তা নিশ্চিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার দুর্গম পাহাড় থেকে তিন যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ পাহাড়ের গভীর এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন রবি আলম, মুজিব উল্লাহ এবং নুরুল বশর প্রকাশ হালানি। পুলিশ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে, নিহতরা তিনজনই চিহ্নিত ডাকাত ও মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, অপহরণ এবং মানবপাচার সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাতে তারা খুনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আধিপত্য বিস্তারের জেরে সৃষ্ট সংঘাত একটি বড় কারণ হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পাহাড়ের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভয়ে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ সবসময় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটায়। পৃথক এই দুই নৃশংস ঘটনার পর পুলিশ খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।