এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
সারা দেশে গত কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গে ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের সাতটি জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে ১ জন করে নিহত হয়েছেন।
মৃতদের মধ্যে কৃষক, নারী, শিশু ও চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন।গাইবান্ধা জেলায় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিকেলে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে গরু আনতে গিয়ে একই স্থানে তিনজনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং প্রবল বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে গোয়ালে গরু তোলার সময় সরাসরি বজ্রপাতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ, ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এসময় পাশে থাকা একটি গবাদি পশুও মারা যায়। অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলার জামিরাচরে বজ্রপাতে ঘোড়াচালক মানিক মিয়ার মৃত্যু হয়েছে এবং সাঘাটায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।জেলায় তাপদাহের পর ঝড়বৃষ্টি শুরু হলেও তা বয়ে এনেছে বিষাদের ছায়া। সেখানে বজ্রপাতে এক নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। মেলান্দহ উপজেলার পশ্চিম কড়ইচুড়া গ্রামে রান্নাঘরে কাজ করার সময় মর্জিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
একই সময়ে সদর উপজেলার চরযথার্থপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে হাসমত আলী নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় দুপুরে বজ্রপাতে নারীসহ দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
নিয়ামতপুর গ্রামে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার সময় লাবণী আক্তার এবং কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে নিজের ফসলি জমি দেখতে গিয়ে ইলিয়াস আলী নামে এক ব্যক্তি মারা যান। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় ধান কাটার মৌসুমে পৃথক সময়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাড়াশে মাঠে কাজ করার সময় কৃষক আব্দুল হামিদ এবং রায়গঞ্জে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ জমিতে কাটা ধান জড়ো করার সময় হাসান শেখ নামে এক যুবক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সকালে চা-বাগানে কাজ করার সময় সারওয়ারদ্দী নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে এবং এতে আরও দুইজন আহত হয়েছেন। বগুড়ার গাবতলীতে বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশের জমি থেকে নিজের ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নাটোরের সিংড়ায় চলনবিল এলাকায় ধান কাটার সময় সম্রাট হোসেন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সম্রাট সিরাজগঞ্জ থেকে ধান কাটার জন্য ওই এলাকায় এসেছিলেন বলে জানা গেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের মধ্যে সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে না যাওয়ার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন