শহিদুল ইসলাম
মে ১, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
নীলফামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং নজিরবিহীন সংহতির মধ্য দিয়ে মহান মে দিবস পালিত হয়েছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং শ্রমিক দল ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার (১ মে) দিবসটি উদযাপন করা হয়। এবারের কর্মসূচিতে দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রমজীবী মানুষ এক কাতারে শামিল হয়ে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নীলফামারী শহরের প্রধান সড়ক চৌরঙ্গী মোড় থেকে শুরু হয়ে বড় বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "শ্রমিকদের ঘামেই সচল থাকে দেশের অর্থনীতির চাকা। তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।" তিনি শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ। এ ছাড়া কর্মসূচিতে নীলফামারী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা প্রধান হক বাচ্চু, শ্রমিক দলের সভাপতি নুর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক জামিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এবারের মে দিবসের কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের সাথে রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিশেষ সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, উপজেলা আমির মাওলানা আবু হানিফা শাহ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা মে দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো প্রকার বৈষম্য নিরসনে প্রশাসন ও মালিকপক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এই যৌথ পদযাত্রা ও সমাবেশ নীলফামারীর শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।