মে ১, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নিজের বড় মেয়ের জন্য পছন্দ করা হবু জামাইয়ের হাত ধরে পালিয়ে গেছেন তিন সন্তানের জননী রিমি খাতুন (৩৫)। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উপজেলার চর-ত্রিবেণী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই নারী তাঁর দুই নাবালক সন্তানকেও সঙ্গে নিয়ে যান।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রিমি খাতুনের সঙ্গে শৈলকুপার চর-ত্রিবেণী গ্রামের গাড়িচালক রাশেদ আলীর (৩৮) বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তান রয়েছে। জীবিকার প্রয়োজনে রাশেদ অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পার্বতীপুর গ্রামের মামুন হোসেন (২৪) নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় রিমির। মামুন নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। সেই সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে রিমি নিজের বড় মেয়ের বিয়ের জন্য মামুনকে পছন্দ করেন।
তবে মা ও হবু জামাইয়ের মধ্যকার অতিরিক্ত মেলামেশা দেখে মেয়ে এই বিয়েতে আপত্তি জানায়। এই বিষয় নিয়ে পরিবারে অশান্তি ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে বড় মেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। বড় মেয়ের মৃত্যুর পরেও রিমি ও মামুনের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল। স্বামী রাশেদ আলী বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
অবশেষে মঙ্গলবার স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ছোট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মামুনের হাত ধরে ঘর ছাড়েন রিমি। ভুক্তভোগী স্বামী রাশেদ আলী এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ন কবির মোল্লা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া গৃহবধূর কাছ থেকে শিশু সন্তানদের উদ্ধারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন