রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ

খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় এক পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে তাঁদের বাসার মিলন নামের এক গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে রান্নার সময় তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আবাসিকের সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক সঞ্জয় মিত্র এবং তাঁর স্ত্রী পপি মিত্র যিনি নিজেও একই থানায় সহকারী উপপরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন। 

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।নির্যাতনের শিকার ওই কিশোর গৃহকর্মীর আদি বাড়ি নরসিংদী জেলায় বলে জানা গেছে।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান যে দুপুরের দিকে বাসার বারান্দায় মিলনকে কান ধরে ওঠবস করানোর পাশাপাশি লাঠি দিয়ে প্রচণ্ড মারধর করা হচ্ছিল। এই দৃশ্য দেখে এক সংবাদকর্মী ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের নারী নেত্রীরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রথমে তাঁদের ভেতরে প্রবেশে কড়া বাধা দেওয়া হয়। 

পরবর্তীতে বিষয়টি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আরও সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা ভবনের সামনে এসে জড়ো হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মিলনকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়।উদ্ধারের পর মিলনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি ও কড়াইয়ের নির্মম ছ্যাঁকার টাটকা ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তাঁর পিঠ ও পায়ে আগের করা নিয়মিত নির্যাতনেরও একাধিক পুরাতন দাগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে। 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান যে জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়েই দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে আপাতত থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো বিভাগীয় কোনো চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।