আগস্ট ৪, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। নামসর্বস্ব পত্রিকা, অনিবন্ধিত পোর্টাল ও ফেসবুক পেজের পরিচয় দিয়ে এসব ব্যক্তি বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। অনুমতি ছাড়াই ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ করায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।এতে ব্যাহত হচ্ছে ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ।
স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, ক্লাস চলাকালীন এসব ব্যক্তি হঠাৎ উপস্থিত হয়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে থাকেন এবং বিভিন্ন নথি দেখতে চান। মূলত শিক্ষকদের বিব্রত করে দুপুরের খাবার বা মোটরসাইকেলের তেলের খরচের নামে টাকা আদায় করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সম্মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এড়াতে অনেক শিক্ষক বাধ্য হয়ে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে দেন।
সম্প্রতি চিলমারী উপজেলার সোনারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন হয়রানির ঘটনা ঘটে। প্রধান শিক্ষক রেজিনা সুলতানা জানান, সাংবাদিক পরিচয়ে আসা দুই ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই তার কক্ষে প্রবেশ করে অশোভন আচরণ করেন। কোনো অনিয়ম খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তারা দুপুরের খাবারের জন্য চাঁদা দাবি করে বসেন। বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক খুরশিদা রহমান ও জাকিয়া সিদ্দিকার মতে, কোনো ত্রুটি পেলে তারা সংবাদ প্রকাশ করতেন, কিন্তু তার বদলে টাকা দাবি করাই প্রমাণ করে এটি একধরনের চাঁদাবাজি।
শিক্ষকদের হয়রানির এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সভাপতি রওশন আরা বেগম এবং কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যসচিব মানোয়ার হোসেন লিটন। তারা অবিলম্বে এই অপসাংবাদিকতা বন্ধের দাবি জানান। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, জেলায় ইতিমধ্যে কয়েকজন ভুয়া সাংবাদিককে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন