মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নিউগিনি আবাসনে হামলা জামায়াতের সম্পর্ক নেই বললেন এমপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

নিউগিনি আবাসনে হামলা জামায়াতের সম্পর্ক নেই বললেন এমপি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মাটিকাটা এলাকায় আবাসন প্রকল্পে গুলিবর্ষণ ও হামলার মামলায় জামাতা মিজানুর রহমান গ্রেপ্তারের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মো. আব্দুল গফুর। বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ উল্লেখ করে তিনি জানান এই ঘটনার সাথে তার নিজের কিংবা দলের কোনো সম্পর্ক নেই। এক লিখিত বিবৃতিতে সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর স্পষ্ট করেন যে মিজানুর রহমানের সাথে ঘটে যাওয়া পুরো বিষয়টি তার একান্ত ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক লেনদেনের ফল। 

এই ঘটনার পেছনে তার কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে এই বিরোধের কোনো ধরনের সম্পর্ক কখনো ছিল না। আবাসন প্রকল্পে মিজানুরের নাম জড়ানোর নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান নিউগিনি প্রোপার্টিজ নামের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাথে মিজানুরের দীর্ঘদিনের লেনদেন ছিল। প্রতিষ্ঠানটির কাছে মিজানুরের বিপুল অঙ্কের বকেয়া পাওনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

আব্দুল গফুর অভিযোগ করেন পাওনা অর্থ পরিশোধ না করতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নেন ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম। একপর্যায়ে নিজের ন্যায্য অর্থ উদ্ধারে মিজানুর রহমান প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার চাপে সাইফুল ইসলাম পাওনা টাকার একটি অংশ পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে মিজানুরের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তদন্তে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়ে আদালত কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়।

সংসদ সদস্য দাবি করেন সম্প্রতি সংঘটিত ভাঙচুর ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনার সাথে তার জানামতে মিজানুরের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং আর্থিক দায় এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক একটি বানোয়াট ঘটনার আশ্রয় নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করা মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অপকৌশল ছাড়া কিছু নয়।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রকল্প এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত অনধিকার প্রবেশ করে ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার অনুযায়ী হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে চালানো হামলায় সাইট প্রকৌশলী মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউন ফিস নামের স্টুডিওতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

সেখান থেকে নগদ অর্থ, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মূল্যবান বৈদ্যুতিক ক্যাবল, ক্যামেরা ও আধুনিক মিডিয়া সরঞ্জাম লুট করা হয়। হামলার সময় প্রকল্প চত্বরে রাখা একাধিক ব্যক্তিগত গাড়িও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে মিজানুর রহমানকে এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এজাহারভুক্তির পরপরই রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান পশ্চিম মাটিকাটা এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে এবং তিনি কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের জামাতা।