মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রেললাইনে আত্মহুতি দিলেন স্ত্রী

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রেললাইনে আত্মহুতি দিলেন স্ত্রী

ছবি: দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় পূজারী স্বামীর মৃত্যুর তীব্র শোক সহ্য করতে না পেরে বাড়ির পাশের রেললাইনে ট্রেনের নিচে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন স্ত্রী। মাত্র নয় ঘণ্টার ব্যবধানে প্রবীণ এই দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত দম্পতি হলেন আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মন ও তার স্ত্রী নিত্য বালা বর্মন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা জানান হরেন্দ্রনাথ বর্মন বাড়ির পাশের মন্দিরে নিয়মিত পূজা পরিচালনা করতেন এবং তার স্ত্রীও নিয়মিত এই ধর্মীয় কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। 

সোমবার রাত নয়টার দিকে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় নিজ বাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হরেন্দ্রনাথ বর্মন। স্বামীর প্রয়াণের পর সারারাত মরদেহের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিত্য বালা। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে পরিবারের সবার অজান্তে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের রেললাইনে যান এবং রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে প্রাণ হারান। সকালে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা রেললাইনে মরদেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে বাড়ির পাশে নিজেদের ফসলি জমিতে প্রস্তুত করা শ্মশানে পাশাপাশি দুটি চিতায় স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে দাহ করা হয়। এই ঘটনায় নিহতদের ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ জানান তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং রাতে মারা যাওয়ার পর মা সারারাত বাবার মরদেহের পাশে বসেছিলেন। সকালে মা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রেললাইনে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি বাবা ও মায়ের আত্মার শান্তি কামনায় সবার কাছে প্রার্থনা ও আশীর্বাদ চেয়েছেন।

এলাকাবাসীর মতে আধুনিক যুগে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল ও হৃদয়বিদারক। প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ জানান ছোটবেলা থেকেই তিনি কাকা ও কাকিমার মাঝে গভীর ভালোবাসা প্রত্যক্ষ করে এসেছেন এবং স্বামীর বিয়োগব্যথা সহ্য করতে না পেরেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি বেছে নিয়েছেন ওই নারী। আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান ঘটনাটির পরপরই পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে সামাজিক নিয়মে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছেন। ঘটনাটি রেলওয়ে সীমানার ভেতরে ঘটায় রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।