সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
নানা দিক থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরে গড়ে ওঠা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারের দোসরদের রাজনৈতিকভাবে আশকারা দিয়ে মাঠে সক্রিয় করে তুলছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কেবল ক্ষমতা দখলের সংকীর্ণ স্বার্থে এই দল দুটি গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে জনসমক্ষে স্বাভাবিক বা পুনর্বাসন করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তারা আবার বিভিন্নভাবে প্রকাশ্য হতে শুরু করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মাশরাফি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেখ হাসিনার জন্মদিনে কোনো বার্তা না দিলেও ২০২৬ সালে এসে প্রকাশ্যে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদ কায়েমের লক্ষ্যে যাদের তৈরি করা হয়েছিল, তারা গত দুই বছর গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও এখন সক্রিয় হচ্ছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুলকে তিনি এর একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইতিহাসের এত বড় হত্যাকাণ্ডের পরও বিরোধী দলগুলোর হঠকারী অবস্থানের কারণেই আওয়ামী লীগ ফিরে আসার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপি যেন রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার দায়িত্ব নিয়েছে এবং তারা লংমার্চ থেকে শুরু করে আগামী ডিসেম্বরে সরকার পতনের আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। বিরোধী দলের এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ বাস ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ঝটিকা মিছিল শুরু করেছে বলে তিনি দাবি করেন। রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত-এনসিপি এই নাশকতাকে প্রশ্রয় দিয়ে দাবি করছে যে ১১ দলের রাজনৈতিক শর্ত মেনে নিলে আর কোনো ককটেল ফুটবে না। এভাবে তাদের প্রত্যক্ষ মদদেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি মেরে থাকা ব্যক্তিরা তৎপর হয়ে উঠছে বলে তার অভিমত।
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনাকেও সরকারের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আখ্যা দেন তিনি। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর এই অর্জন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার কথা ছিল, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে বিতর্ক অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলে গোয়েন্দা সংস্থার একটি নকশা অনুযায়ী জনৈক মাসুদ করিম বিরোধী দলের কিছু নেতাকে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সাজিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বুঝে বা না বুঝে রাজনীতিক কর্নেল অলি আহমেদ, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ এবং বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহারের মতো ব্যক্তিরা সেই ফাঁদে পা দিয়েছিলেন। বারংবার ব্যর্থ আন্দোলন ডেকে বিরোধী শিবিরে এমন হতাশা তৈরি করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য, যাতে মনে হয় শেখ হাসিনাকে আর সরানো সম্ভব নয়।
২০২৪ সালের গণআন্দোলন সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংসদ নির্বাচনের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কিছু নেতাকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যেন বিএনপি এককভাবে ক্ষমতায় যেতে না পারে। বিএনপি একটি বৃহত্তর দল হওয়ায় ক্ষমতা গ্রহণের পর কিছু সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাড্ডা ক্লিনিকে সেরকম কিছু ব্যক্তিকে ব্যবহার করে ঘটনাটি সাজানো হয়েছে যাতে তাদের বিএনপির লোক হিসেবে চিত্রিত করা যায়। অন্যদিকে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের ঘটনায় জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্যের জামাতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জমির মালিক নিজে মামলা করেছেন বলে তিনি জানান। তবে অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির নিজে দীর্ঘ সময় থানায় বসে মামলা করেছেন দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়ালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যই সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবশেষে তিনি ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশে কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন